
যশোরের মণিরামপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় বাবা-মা ও মেয়ে—একই পরিবারের তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তবে আহত মেয়ের অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার বিকেলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এ ঘটনায় ৯ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এখনো কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়নের খড়িঞ্চি গ্রামের মৃত আব্দুল্লাহ গাজীর ছেলে মুজার আলী গাজী প্রায় ৫০ বছর আগে ১৬ শতক জমি ক্রয় করে সেখানে বাড়ি নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। তবে প্রতিবেশী বজলু গাজীর ছেলে আব্দুর রাজ্জাক ও রাজ আলী গত বছর থেকে ওই জমির একটি অংশকে শরিকানা দাবি করে আসছেন, যা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য (৪নং ওয়ার্ড) লিটন হোসেন জানান, ক্রয়সূত্রে ১৬ শতক জমির প্রকৃত মালিক মুজার আলী। তবে প্রতিবেশী রাজ আলী ও তার ভাই আব্দুর রাজ্জাক ওই জমির একটি অংশ শরিকানা দাবি করলেও স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশ বৈঠকে তারা কোনো বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি।
অভিযোগ রয়েছে, সোমবার দুপুরে আব্দুর রাজ্জাক, রাজ আলী ও তাদের ছেলে নয়নের নেতৃত্বে ৯-১০ জনের একটি দল ধারালো দা, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মুজার আলীর বাড়িতে হামলা চালায়। হামলার সময় প্রথমে মুজার আলীকে মারধর করা হয়। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার স্ত্রী রাশিদা বেগম ও মেয়ে ফুলসুরাত খাতুনও হামলার শিকার হন।
মুজার আলীর অভিযোগ, হামলাকারীরা তার স্ত্রী ও মেয়েকে বেধড়ক মারধর করে। এতে ফুলসুরাতের মাথা ফেটে যায় এবং একটি হাত ভেঙে যায়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মুজার আলী ও তার স্ত্রীকেও গুরুতর আহত করা হয়।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে ফুলসুরাত খাতুনের অবস্থার অবনতি হলে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় মুজার আলী গাজী বাদী হয়ে রাজ আলী, আব্দুর রাজ্জাক, নয়ন হোসেন, মশিয়ার রহমানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন