
যশোরের কলেজছাত্রী তাসফিয়া ফাতেমা মাহির আত্মহত্যার ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনা এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে তার সাবেক স্বামী ওমর ফারুক ওরফে সাহেবের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন। আসামি ওমর ফারুক যশোর সদর উপজেলার শ্রীপদ্দি গ্রামের আইয়ুব হোসেনের ছেলে। শ্রীপদ্দা গ্রামের বাবা রুহুল আমিন বাদী হয়ে এ মামলা করেছেন।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২০২৪ সালে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে ওমর ফারুক মাহিকে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে তাদের দাম্পত্য সম্পর্কের বিচ্ছেদ হলেও তিনি বিভিন্নভাবে মাহিকে অনুসরণ ও হয়রানি করতে থাকেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ওমর ফারুক মাহির নামে একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে তাদের বিভিন্ন ব্যক্তিগত ছবি প্রকাশ করেন। বিষয়টি বন্ধ করার জন্য মাহির পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন। এছাড়া সাবেক স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও নগ্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। একই সঙ্গে তার সঙ্গে সংসার না করলে তাকে মরতে হবে বলেও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এসব ঘটনায় মাহি মারাত্মক মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েন এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে একাধিকবার নিজের নিরাপত্তাহীনতার কথা জানান। গত ২৩ জুন দিবাগত রাতে যশোর সদর উপজেলার সুজলপুর গ্রামের জামতলা এলাকায় খালার বাড়িতে অবস্থানকালে মাহি নিজ কক্ষে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, আসামি ওমর ফারুকের ধারাবাহিক মানসিক নির্যাতন, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা এবং ব্যক্তিগত ও নগ্ন ছবি প্রকাশের হুমকির কারণেই মাহি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।
মন্তব্য করুন