
শুরুতেই একটা সুযোগ পেয়েছিল সুইডেন, তবে তা ছিল কেবলই ঝড়ের আগের পূর্বাভাস। এরপর পুরো ম্যাচ জুড়ে যা হলো, তার কোনো জবাব জানা ছিল না সুইডিশ রক্ষণভাগের। আক্রমণের তীব্র তোড়ে সুইডেনকে ভাসিয়ে দিয়ে অসাধারণ এক জয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে পা রাখলো দিদিয়ে দেশোঁর ফ্রান্স। এক ম্যাচ বিরতির পর আবারও কিলিয়ান এমবাপের ম্যাজিক—করলেন চোখধাঁধানো জোড়া গোল।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শেষ বত্রিশের (নকআউট) হাইভোল্টেজ ম্যাচে ৩-০ গোলের বড় জয় পেয়েছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোরে সম্পন্ন হওয়া এই ম্যাচে ফ্রান্সের হয়ে অন্য গোলটি করেন তরুণ তুর্কি ব্র্যাডলে বার্কোলা। গোল না পেলেও পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত খেলে দুটি অ্যাসিস্ট করেন মাইকেল ওলিসে।
ম্যাচের ব্যবধান ৩-০ হলেও ফরাসিদের আক্রমণের ধার বিবেচনা করলে ব্যবধানটা আরও বড় হতে পারত। ম্যাচ জুড়ে ফ্রান্সের একচেটিয়া দাপটের প্রমাণ মেলে পরিসংখ্যানের চিত্রে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা পাঁচ ম্যাচে অন্তত ৩টি বা তার বেশি গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়ল ফরাসিরা।
গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে জোড়া গোল করা এমবাপে শেষ ম্যাচে গোল না পেলেও করেছিলেন দুটি অ্যাসিস্ট। নকআউটের শুরুতেই আবারও জোড়া গোল করে রেকর্ড বই ওলটপালট করে দিয়েছেন ২৭ বছর বয়সী এই রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড। দুই ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি লেওনিদাস (৮ গোল) ও রোনালদোকে (৮ গোল) ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এখন এককভাবে সর্বোচ্চ গোলের (১০ গোল) মালিক এমবাপে। মিরোস্লাভ ক্লোসাকে (১৬ গোল) টপকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এককভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতার (১৮ গোল) আসনটি এখন এমবাপের। তার সামনে কেবল ১৯ গোল নিয়ে চূড়ায় আছেন লিওনেল মেসি। চলতি বিশ্বকাপে ৬ গোল নিয়ে আপাতত লিওনেল মেসির সঙ্গেই যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে আছেন এমবাপে।
ম্যাচের ৩য় মিনিটে লিভারপুল স্ট্রাইকার আলেকসান্দার ইসাক সুইডেনের পক্ষে প্রথম সুযোগ পেলেও তার দুর্বল শট সহজেই লুফে নেন ফরাসি কিপার মাইক মিয়াঁ। এরপরই শুরু হয় ফ্রান্সের একক আধিপত্য। ১৫ মিনিটে লুকা জিনিয়া এবং ১৭ মিনিটে এমবাপের দূরপাল্লার শট রুখে দেন সুইডিশ গোলরক্ষক ইয়াকুব ভিদেল জেততেরস্ত্রুম।
৩২ মিনিটে জুল কুন্দের চমৎকার কাটব্যাক থেকে এমবাপের শট এবং ৩৬ মিনিটে মাইকেল ওলিসের চোখধাঁধানো বাইসাইকেল কিক—দুটি প্রচেষ্টাই পোস্টে লেগে প্রতিহত হলে হতাশ হতে হয় ফ্রান্সকে। অবশেষে ৪৪ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন এমবাপে। ওলিসের কর্নার থেকে দেম্বেলে হয়ে বল পেয়ে, বক্সের ভেতর ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে বাঁকানো শটে জাল কাঁপান তিনি। গোল করেই ডাগআউটে ছুটে গিয়ে কোচ দিদিয়ে দেশোঁকে জড়িয়ে ধরেন এমবাপে। মায়ের শেষকৃত্যে যোগ দিতে দেশে ফেরায় গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ডাগআউটে ছিলেন না এই বিশ্বকাপজয়ী কোচ।
বিরতির পর ৫৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফ্রান্স। ওলিসের চমৎকার পাস বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জোরাল শটে গোল উৎসব করেন ব্র্যাডলে বার্কোলা। এরপর ৭১ মিনিটে ওলিসে নিজে একটি সুবর্ণ সুযোগ মিস করলেও, ৭৪ মিনিটে তার পাস থেকেই নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন এমবাপে।
নির্ধারিত সময়ের ৫ মিনিট বাকি থাকতে এমবাপে ও ওলিসে দুজনকেই তুলে নিয়ে বিশ্রামে পাঠান কোচ দেশোঁ। শেষ দিকে সুইডেন দুটি আক্রমণ করলেও গোলরক্ষক মাইক মিয়াঁকে পরাস্ত করতে পারেনি।
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার মহালড়াইয়ে ফ্রান্সের পরবর্তী প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে।
মন্তব্য করুন