
বিশ্বকাপের মঞ্চে আরও একটি মহাকাব্যিক থ্রিলার! ম্যাচের ৭৪ মিনিট পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে যখন বিশ্বমঞ্চের শেষ ৩২ থেকে বিদায়ের প্রহর গুনছিল ইংল্যান্ড, ঠিক তখনই ফুটবল বিশ্ব দেখল 'থ্রি লায়ন্স' অধিনায়কের অতিমানবীয় এক তাণ্ডব। ৭৫ ও ৮৬ মিনিটে হ্যারি কেইনের ব্যাক-টু-ব্যাক দুর্দান্ত দুই গোলে ডিআর কঙ্গোর (DR Congo) হৃদয় ভেঙে ২-১ ব্যবধানের অবিশ্বাস্য জয় ছিনিয়ে নিয়েছে ইংল্যান্ড। আর এই জাদুকরী জয়ে গ্রুপ পর্বের পর নকআউট পর্বের প্রথম ধাপ পার করে বিশ্বকাপের 'শেষ ষোলো' বা রাউন্ড অব সিক্সটিন নিশ্চিত করল গ্যারেথ সাউথগেটের দল।
ডিআর কঙ্গোর প্রতিরোধ ও ইংল্যান্ডের দীর্ঘ দুঃস্বপ্ন
ম্যাচের শুরু থেকেই আফ্রিকান পরাশক্তি ডিআর কঙ্গো তাদের গতি ও শারীরিক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে বসে। ইংলিশ ডিফেন্সের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে প্রথমার্ধেই গোল করে এগিয়ে যায় তারা। এরপর ম্যাচের ৭৪ মিনিট পর্যন্ত তারা যেভাবে রক্ষণভাগ জমাট রেখেছিল, তাতে মনে হচ্ছিল বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটনটি বোধহয় ঘটেই গেল। বুকায়ো সাকা, জুড বেলিংহামরা বারবার আক্রমণ করেও কঙ্গোর দেয়ালে ফাটল ধরাতে পারছিলেন না।
কেইনের ১১ মিনিটের টর্নেডো ও পেলের রেকর্ড চূর্ণ
যখন চারদিকে শুধুই হতাশা, তখনই দৃশ্যপটে আসেন হ্যারি কেইন। মাত্র ১১ মিনিটের ব্যবধানে পুরো ম্যাচের ভাগ্য একাই বদলে দেন এই বায়ার্ন মিউনিখ তারকা।
৭৫ মিনিটে সমতা (১-১) : ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে বক্সের ভেতরের জটলা থেকে উড়ে আসা বলে দারুণ টাইমিংয়ে এক বুলেট হেডারে কঙ্গোর জাল কাঁপান কেইন। এই সমতাসূচক গোলে প্রাণ ফিরে পায় পুরো ইংল্যান্ড শিবির।
৮৬ মিনিটে জয়সূচক গোল ও ইতিহাস (২-১) : সমতাফেরার ঠিক ১১ মিনিট পর, অর্থাৎ ৮৬ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। বক্সের সামান্য বাইরে উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডনের পাস থেকে বল পান কেইন। দুর্দান্ত ড্রিবলিংয়ে কঙ্গোর তিন ডিফেন্ডারের ফাঁদ এড়িয়ে বক্সে ঢুকেই ডান পায়ের এক নিখুঁত ও জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি।
এই দ্বিতীয় গোলের মাধ্যমে ফুটবল সম্রাট পেলের (১২ গোল) বিশ্বকাপ রেকর্ড ভেঙে নিজের ১৩তম বিশ্বকাপ গোলটি উদযাপন করেন কেইন। চলতি আসরে এটি তার ৫ নম্বর গোল।
রেফারির শেষ বাঁশি ও ইংলিশদের উল্লাস
কেইনের দ্বিতীয় গোলের পর ডিআর কঙ্গো সমতায় ফিরতে অলআউট আক্রমণ চালালেও ইংলিশ ডিফেন্স আর কোনো ভুল করেনি। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই ২-১ গোলের অবিশ্বাস্য জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড। কঙ্গোর রূপকথা থামিয়ে দিয়ে শেষ পর্যন্ত 'শেষ ষোলো'র টিকিট কেটে মাঠ ছাড়ল সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরাই।
মন্তব্য করুন