
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার গুলিশাখালী ফাজিল (স্নাতক) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারির বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, অর্থ আদায় এবং শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষকরা। একই সঙ্গে তার চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ায় পুনরায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ না দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বুধবার (১ জুলাই) সকাল ১১টায় উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের গুলিশাখালী ফাজিল (স্নাতক) মাদ্রাসার শিক্ষক মিলনায়তনে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মাদ্রাসার প্রভাষক, ইবতেদায়ি শাখাসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা অংশ নেন।
সভায় সহকারী অধ্যক্ষ মো. শহিদুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক শেখ আব্দুল্লাহ মাসুদ, প্রভাষক হাসিবুর হাসান হৃদয়, নাহিদ হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, আব্দুল কাইয়ুম, নাজমিন আক্তার, ইবতেদায়ি প্রধান মোস্তাফিজুর রহমানসহ একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ বিভিন্ন সময়ে নানা অজুহাতে শিক্ষকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেছেন।
তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, সহকারী অধ্যাপক শেখ আব্দুল্লাহ মাসুদকে কারণ ছাড়াই শোকজ করে তার কাছ থেকে ১ লাখ টাকা এবং দুটি উচ্চতর স্কেল দেওয়ার নামে আরও ১ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এছাড়া ২০২৫ সালে এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত পাঁচজন শিক্ষকের কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা, ইবতেদায়ি শিক্ষক নাজমিন আক্তারের কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা, ২০২৬ সালে আইসিটি প্রভাষক নাহিদ হোসেনের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা, কৃষি শিক্ষক মমতাজ বেগমের কাছ থেকে ৮৫ হাজার টাকা, আরবি প্রভাষক মুজিবুর রহমানের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং দাখিল কারিগরি শিক্ষক আব্দুল গফফার মৃধার কাছ থেকে উচ্চতর স্কেলের নামে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। এছাড়া ২০০৯ সালে বেতন-ভাতা বন্ধ থাকাকালে পুনরায় বেতন চালুর অজুহাতে ১১ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
শিক্ষকদের আরও অভিযোগ, অধ্যক্ষ দীর্ঘদিন ধরে এককভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন এবং শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ করছেন। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত ওয়াশরুম সুবিধাও নেই বলে তারা দাবি করেন। তাদের অভিযোগ, চলতি বছরের ২৯ জুন অধ্যক্ষের চাকরির মেয়াদ শেষ হলেও তিনি পুনরায় চুক্তিভিত্তিকভাবে দায়িত্বে থাকার চেষ্টা করছেন এবং বহিরাগতদের নিয়ে পদে বহাল থাকার পাঁয়তারা চালাচ্ছেন। এ বিষয়ে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে গুলিশাখালী ফাজিল (স্নাতক) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারি বলেন, তিনি শিক্ষকদের কাছ থেকে কোনো অর্থ গ্রহণ করেননি এবং তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি জানান, ২৯ জুন তার চাকরির মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে বিধি অনুযায়ী ম্যানেজিং কমিটি তাকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আবেদন পাঠিয়েছে। আবেদন অনুমোদিত হলে তিনি বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করবেন।
এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ বলেন, মাদ্রাসাটির সভাপতি পদাধিকারবলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)। তার নির্দেশনায় বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হলে কোনো প্রতিষ্ঠান প্রধান ওই পদে থাকতে পারেন না। নিয়মবহির্ভূতভাবে পদে থাকার সুযোগ নেই। পরিস্থিতি বিশৃঙ্খলার দিকে গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন