
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় এখন কাঁঠালের ভরা মৌসুম। এ বছর উপজেলায় বাম্পার ফলন হলেও বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন বাগান মালিক ও চাষিরা। তবে সংরক্ষণের আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক বাজার, বিশেষ করে চীনে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে এ সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনুকূল মাটি ও আবহাওয়ার কারণে গত কয়েক বছরে শৈলকুপায় বাণিজ্যিকভাবে কাঁঠালের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ঝিনাইদহ জেলার সবচেয়ে বড় কাঁঠালের হাটও বসে শৈলকুপায়। জ্যৈষ্ঠ থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত চলা এ হাটে প্রতি শনি ও মঙ্গলবার ১০ থেকে ১৫ ট্রাক কাঁঠাল ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়।
ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, শৈলকুপার কাঁঠালের হাটে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৪০ লাখ টাকার বেচাকেনা হয়, যা মাসে প্রায় কোটি টাকায় পৌঁছে। তবে এ বছর বাজার পরিস্থিতি ভিন্ন। তাদের ভাষ্য, গত বছরের তুলনায় পাইকারি বাজারে কাঁঠালের দাম ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে ছোট আকারের প্রতি ১০০টি কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকায়। মাঝারি আকারের প্রতি ১০০টি কাঁঠালের দাম ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা এবং বড় আকারের প্রতি ১০০টি কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে ৬ থেকে ৮ হাজার টাকায়।
চাষিদের অভিযোগ, উৎপাদন ব্যয়, পরিচর্যা এবং পরিবহন খরচ বিবেচনায় বর্তমান বাজারদরে তাদের লাভ তো দূরের কথা, অনেকেই খরচও তুলতে পারছেন না। অথচ কাঁঠালের কোনো অংশই অপচয় হয় না। কাঁচা ও পাকা—উভয় অবস্থায় এটি খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া বিচি যেমন পুষ্টিকর খাদ্য, তেমনি খোসা ও অন্যান্য উপজাত গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
শৈলকুপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন, “শৈলকুপার কাঁঠাল দেশব্যাপী সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল হিসেবে পরিচিত। কিন্তু মৌসুমের শুরুতেই একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ কাঁঠাল বাজারে চলে আসায় চাষিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ অবস্থায় সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে আধুনিক সংরক্ষণাগার কিংবা প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা গেলে চাষিদের অর্থনৈতিক ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।”
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চীন সফরের সময় দেশটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ থেকে কাঁঠাল আমদানির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। কৃষি বিপণন বিভাগের সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি প্রক্রিয়া ও কোয়ারেন্টাইনসংক্রান্ত জটিলতার কারণে চলতি বছর এ সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব না হলেও, আগামী বছর পরিকল্পিতভাবে চীনে কাঁঠাল রপ্তানি শুরু করা গেলে স্থানীয় কৃষক ও বাগান মালিকেরা উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হবেন।
স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীরাও একই দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এলাকায় একটি আধুনিক সংরক্ষণাগার স্থাপন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁঠাল রপ্তানির সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং এ অঞ্চলের কাঁঠাল চাষ আরও লাভজনক হয়ে উঠবে।
মন্তব্য করুন