
মোটরগাড়ির পোড়া তথা ক্ষতিকর মবিলচালিত চুলার (স্টোভ আকৃতির) উৎপাদন ও বাণিজ্যিক ব্যবহার নির্মূলে আইনগত, প্রশাসনিক ও কারিগরি কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—এ বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করে ৯০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি রাজিক–আল–জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আজ বুধবার রুলসহ এ আদেশ দেন। এ ধরনের চুলা ‘পোড়া মবিল চুলা’ হিসেবেও পরিচিত।
বিপজ্জনক বর্জ্য মোটর অয়েল ব্যবহৃত এই স্টোভের (স্থানীয়ভাবে পোড়া মবিল চুলা হিসেবে পরিচিত) উৎপাদন, বাণিজ্যিক বিক্রি, অনলাইনে প্রচার ও বিস্তৃত ব্যবহার বন্ধে নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে। পরিবেশসচিব, আইনসচিব, স্বাস্থ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বিষাক্ত মোটর অয়েল ব্যবহৃত ওই স্টোভের (স্থানীয়ভাবে পোড়া মবিল চুলা হিসেবে পরিচিত) উৎপাদন, বিক্রি ও বিস্তৃত ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ এবং নিয়ন্ত্রণ–তদারকিতে নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে গত ১৭ জুন রিটটি করা হয়। রাজধানীর পশ্চিম শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা সুলতানা শেহেরজাদ আবেদনকারী হয়ে রিটটি করেন। আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী নুসরাত জাহান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিলা মমতাজ ও মো. জসিদুল ইসলাম জনি।
পরে আইনজীবী নুসরাত জাহান প্রথম আলোকে বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা অনুসারে যেসব বর্জ্যদ্রব্য থেকে লেড (সিসা), ক্যাডমিয়াম ও ডক্সিন নির্গত হয়, সেগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ব্যবহৃত মোটর অয়েল তথা পোড়া মবিল ব্যবহার করা হলে সে ক্ষেত্রে লেড ও ক্যাডমিয়ামের মতো ক্ষতিকারক পদার্থ তৈরি হয়। ব্যবহৃত মোটর অয়েল অর্থাৎ পোড়া মবিল আবার চুলায় ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক ও হুমকিস্বরূপ। যে কারণে রিটটি করা হয়।
পোড়া মবিলচালিত চুলার উৎপাদন ও বাণিজ্যিক ব্যবহার নির্মূলে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানিয়ে পরিবেশসচিব, স্বাস্থ্যসচিবসহ বিবাদীদের ৯০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান আইনজীবী নুসরাত জাহান।
মন্তব্য করুন