
যশোর সদর উপজেলার নীলগঞ্জ মহাশ্মশান মন্দির প্রাঙ্গণে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ২৪ প্রহরব্যাপী শ্রী শ্রী তারকব্রহ্ম মহানামযজ্ঞ ও অষ্টকালীন লীলা কীর্তন অনুষ্ঠান আনুষ্ঠানিকতার সাথে শুরু হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় মহাশ্মশান মন্দির প্রাঙ্গণে এক ভাবগম্ভীর পরিবেশে মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে এই উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। নীলগঞ্জ মহাশ্মশান কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পুরো মন্দির প্রাঙ্গণে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
এর আগে গত সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের বিস্তারিত সূচি ও কর্মসূচি গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হয়েছিল।
মহাশ্মশান কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও উৎসবকে কেন্দ্র করে বিপুল সংখ্যক ভক্ত ও পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটবে। বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণ কামনায় এই ১৩তম বার্ষিকী ২৪ প্রহরব্যাপী মহানামযজ্ঞ ও লীলা কীর্তন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে মহানামযজ্ঞের উদ্বোধন করেন যশোর রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রমের সহকারী সম্পাদক স্বামী আত্মবিভানন্দজী মহারাজ। নীলগঞ্জ মহাশ্মশান কমিটির পক্ষ থেকে উপস্থিত সকল ভক্তবৃন্দকে স্বাগত জানান এবং অনুষ্ঠানটি সুন্দর ও সফলভাবে সম্পন্ন করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। আগামী দিনগুলোতেও উৎসব প্রাঙ্গণে ধর্মীয় আলোচনা, লীলা কীর্তন ও মহাপ্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে আগামী ৬ জুলাই অনুষ্ঠানমালার সমাপ্তি ঘটবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু। স্বাগত বক্তব্য ও সভাপতিত্ব করেন নীলগঞ্জ মহাশ্মশান কমিটির সভাপতি অধ্যাপক অলক কুমার ঘোষ।
আরো বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক এ্যাডভোকেট হাজ্বী আনিছুর রহমান মুকুল, যশোর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি ও নীলগঞ্জ মহাশ্মশান কমিটির উপদেষ্টা অসীম কুন্ডু, যশোর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মৃণাল কান্তি দে, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব ও জেলা কমিটির সদস্য সচিব নির্মল কুমার বিট। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গীতাপাঠ করেন সনাতন সংঘ যশোর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অখিল চক্রবর্তী। সঞ্চালক ছিলেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সহ-সভাপতি দীপক কুমার রায়।
মন্তব্য করুন