
ভারতের বরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব, অভিনেত্রী ও পরিচালক বিজয়া মেহতা আর নেই। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভোগার পর মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় নাট্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ভারতীয় নাট্য আন্দোলনের ইতিহাসে বিজয়া মেহতার নাম অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়। ষাটের দশকে মুম্বাইয়ে প্রতিষ্ঠিত বিখ্যাত নাট্যদল ‘রঙ্গায়ন’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি। নাট্যকার বিজয় তেন্ডুলকর, অভিনেতা অরবিন্দ দেশপাণ্ডে এবং শ্রীরাম লাগুর মতো কিংবদন্তি শিল্পীদের সঙ্গে মিলে তিনি আধুনিক মারাঠি নাট্য আন্দোলনে নতুন দিগন্তের সূচনা করেন।
তাঁর নেতৃত্ব ও সৃজনশীল চিন্তাভাবনার মাধ্যমে নাটক কেবল বিনোদনের মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং সমাজ, রাজনীতি ও মানুষের মত প্রকাশের শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। তাঁর কাজ মারাঠি থিয়েটারের ভাষা, উপস্থাপনা ও দর্শনকে নতুন মাত্রা দেয়।
মঞ্চনাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও সফলভাবে কাজ করেছেন বিজয়া মেহতা। তাঁর পরিচালিত ‘রাও সাহেব’ (১৯৮৬) এবং ‘পেস্টনজি’ (১৯৮৮) চলচ্চিত্র দেশ-বিদেশে সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করে।
অভিনেত্রী হিসেবেও তিনি ছিলেন সমান উজ্জ্বল। ১৯৮৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পার্টি’ চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় ভারতীয় সিনেমার অন্যতম স্মরণীয় পরিবেশনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
১৯৩৪ সালের ১ জানুয়ারি তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্গত গুজরাটের বরোদায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর আসল নাম ছিল বিজয়া জয়বন্ত। থিয়েটারের প্রতি গভীর অনুরাগ থেকে তিনি বিখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব ইব্রাহিম আলকাজি এবং আদি মারজবানের অধীনে নাট্যের দীক্ষা নেন।
শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি তাঁর ক্যারিয়ারে বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। ভারত সরকার তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘পদ্মশ্রী’ উপাধিতে ভূষিত করে। এ ছাড়া ১৯৮৭ সালে ‘রাও সাহেব’ সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন তিনি। দীর্ঘ সময় তিনি সংগীত নাটক একাডেমির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর আত্মজীবনী ‘ঝিলতা ঝিলত বাতা’ পাঠকদের মাঝে বেশ প্রশংসিত হয়।
মন্তব্য করুন
৩০ জুন ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম
৩০ জুন ২০২৬, ১০:১৮ পিএম