
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা, রক্তি ও পাটলাই নদীতে বিআইডব্লিউটিএ ইজারাদারের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত টোল আদায়ের নামে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি, নৌ-শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন এবং জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ‘যাদুকাটা নদী নৌকা মালিক সমিতি’ ও ‘স্টোন ক্রাসার মালিক সমিতি’র পক্ষ থেকে যৌথভাবে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন দুই সমিতির নেতৃবৃন্দ কামাল মিয়া, গনি মিয়া, রাখাব উদ্দিন, শামিম হায়দার সেন্টু, জাকির হোসেন ডালিম, শাহিদ মিয়া, নুরুদ্দিন, নুর আলী, সিদ্দিক মিয়া, শামসুল হক, আমির হোসেন, সুমন আহমেদ, সজীব আহমেদ, মোবাশ্বির আলম হিমেল, মোহাম্মদ জাহিদুল আলম, তুহিন আহমদ, মাজহারুল ইসলামসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী ও সাধারণ সদস্যরা।
স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, তাহিরপুরের ফাজিলপুর এলাকায় একই পয়েন্টে বালি-পাথরবাহী নৌকা থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ত্রিমুখী টোল আদায় করা হচ্ছে। এতে বিআইডব্লিউটিএ-এর নামে প্রতি ঘনফুটে ৩ টাকা, খাস কালেকশনের নামে ১ টাকা এবং ফাজিলপুর টোল ট্যাক্সের নামে আরও ১ টাকা ৩০ পয়সা আদায় করা হচ্ছে—মোট ৫ টাকা ৩০ পয়সা হারে।
এছাড়া শ্রীপুর ডাম্পের বাজার সংলগ্ন পাটলাই নদীতে বিআইডব্লিউটিএ নির্ধারিত ৩ টাকার পাশাপাশি ‘কুটগাড়ি’র নামে প্রতি ঘনফুটে অতিরিক্ত ২ টাকা আদায়ের অভিযোগও করা হয়। ব্যবসায়ীদের দাবি, এসব নদীতে কোনো সরকারি টোল চার্ট বা মূল্য তালিকা টাঙানো নেই এবং আদায়কৃত অর্থের বিপরীতে কোনো বৈধ পাকা রশিদও দেওয়া হয় না।
অভিযোগে আরও বলা হয়, নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ইজারাদারের লোকজন নৌ-শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায় এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে নির্যাতন করে। এতে অনেক মাঝি ও শ্রমিক মাঝনদীতে নৌকা ফেলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে ব্যবসায়ী নেতারা গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, এই নৌরুট ব্যবহার করে শত শত ব্যবসায়ী ও মালিক বালি, পাথর ও কয়লা পরিবহন করছেন। কিন্তু অতিরিক্ত টোল আদায়ের কারণে ব্যবসার খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে।
তাঁরা আরও বলেন, এভাবে চলতে থাকলে শত শত নৌকা মালিক দেউলিয়া হয়ে পড়বে এবং হাজার হাজার নৌ-শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়বেন।
নৌপথে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—সরকারি টোল চার্ট প্রকাশ্যে টাঙানো, পাকা রশিদের মাধ্যমে টোল আদায়, নৌ-শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন বন্ধ এবং মাঝনদীতে নৌকা থামিয়ে চাঁদাবাজি বন্ধ করে নির্ধারিত বুথে টোল আদায় নিশ্চিত করা। পাশাপাশি নৌ-শ্রমিক ও মালিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপি গ্রহণ করে জেলা প্রশাসক বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, স্মারকলিপির অনুলিপি পুলিশ সুপার (সুনামগঞ্জ), নৌ পুলিশ সুপার (সিলেট অঞ্চল), তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন
০২ জুলাই ২০২৬, ১২:১০ এএম
০১ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
০২ জুলাই ২০২৬, ১২:২৫ এএম