
২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও পুরো অর্থবছরের হিসাবে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আয় আগের বছরের তুলনায় কমেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে দেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় হয়েছে ৪ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ০.৫৮ শতাংশ কম।
এছাড়া সরকারের নির্ধারিত ৫ হাজার ৫০০ কোটি ডলার রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রকৃত আয় প্রায় ১৩ শতাংশ কম হয়েছে।
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ৪ হাজার ৮২৮ কোটি ৩৯ লাখ ডলার। সেই তুলনায় সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে রপ্তানি আয় কিছুটা কমে যাওয়ায় সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হয়েছে।
এক অর্থবছর পরই রপ্তানি আরও কমে যেত পারত যদি না অর্থবছরের শেষ মাস জুনে ২৫ দশমিক ৯১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি না হত। এ মাসে ৪২০ কোটি ২৭ লাখ ডলার আয় করেছেন রপ্তানিকারকরা। গত অর্থবছরের একই মাস জুনে আয়ের পরিমাণ ছিল ৩৩৩ কোটি ৭৯ লাখ ডলার।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) বৃহস্পতিবার রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
এর আগে টানা আট মাস কমার পর গত এপ্রিলে বেড়েছিল অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক। তবে পরের মাস মে‘তেই এসে ফের হোঁচট খায় রপ্তানি আয়। ওই মাসে ৪৪০ কোটি ২৮ লাখ ডলার আয় হয়েছিল, যা ছিল আগের অর্থবছরের মে মাসের চেয়ে ৭ দশমিক শূন্য ৭শতাংশ কম।
এপ্রিলে পণ্য রপ্তানি থেকে ৪০০ কোটি ৯৯ লাখ ডলার আয় হয়েছিল; যা ছিল আগের বছরের একই মাসের চেয়ে প্রায় ৩৩ শতাংশ বেশি।
ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক খাত থেকে আয় কমায় গেল অর্থবছরে সামগ্রিক রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৮৭০ কোটি ১১ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১.৬৪ শতাংশ কম।
অন্যদিকে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই খাত থেকে আয় হয়েছিল ৩ হাজার ৯৩৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
রপ্তানি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস। তাই লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রপ্তানি আয় কমে যাওয়া অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। যদিও জুন মাসের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি কিছুটা আশাবাদ তৈরি করেছে, তবে আগামী অর্থবছরে রপ্তানি খাতকে টেকসই প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরিয়ে আনতে নতুন বাজার সম্প্রসারণ, পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং তৈরি পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
মন্তব্য করুন