
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে একটি সম্ভাব্য কাঠামোগত শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল বেসরকারি পুনর্গঠন ও উন্নয়ন তহবিল গঠনের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই তহবিলের মূল উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইরানের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশটির শিল্প ও অবকাঠামো খাতকে পুনরায় সচল করা।
চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, এই তহবিলের অর্ধেকেরও বেশি অর্থ ইতোমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) দুই দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত এই তহবিলটি কোনো সরকারি অনুদান বা যুদ্ধক্ষতিপূরণ নয়; বরং এটি একটি সম্পূর্ণ বেসরকারি বিনিয়োগ ব্যবস্থা। এতে যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় আরব দেশসমূহ, এশিয়া, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন কোম্পানি অংশ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এই বিনিয়োগ মূলত জ্বালানি, লজিস্টিকস, উৎপাদন শিল্প এবং পরিবহন খাতে ব্যবহৃত হবে বলে পরিকল্পনায় উল্লেখ রয়েছে।
ইরানি সূত্র অনুযায়ী, তেহরান শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল। তবে আলোচনার পর তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় বিকল্প হিসেবে “রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড” বা পুনর্গঠন ও উন্নয়ন তহবিলের ধারণা সামনে আসে।
এই তহবিলের আওতায় মোবারকাহ স্টিল কমপ্লেক্স, তেল শোধনাগার এবং বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আঞ্চলিক দেশগুলো ঋণ সুবিধা, ক্রেডিট লাইন এবং সরাসরি পুনর্নির্মাণ কার্যক্রমের মাধ্যমে অংশ নিতে পারে।
গত চার দশকের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি বৈশ্বিক বাজার থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন ছিল। তবে দেশটির রয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস এবং চতুর্থ বৃহত্তম তেল মজুত।
প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার এই দেশটি পেট্রোকেমিক্যাল, খনি, কৃষি ও পর্যটন খাতে বিশাল সম্ভাবনার অধিকারী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এই বিনিয়োগ তহবিল যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা জব্দ সম্পদ মুক্তির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। এটি সম্পূর্ণ আলাদা একটি অর্থনৈতিক উদ্যোগ।
চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পরই তহবিল কার্যকর হবে এবং আগামী ৬০ দিনের মধ্যে প্রকল্পগুলোর পরিকল্পনা ও পরিধি নির্ধারণ করা হবে।
হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা যায়, ইরান যদি পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করে, ইউরেনিয়াম মজুত ধ্বংস করে এবং কঠোর আন্তর্জাতিক পরিদর্শন মেনে নেয়, তবেই এই তহবিলের সুবিধা পেতে পারে।
তহবিলটি কে পরিচালনা করবে এবং এর বিস্তারিত কাঠামো কী হবে—তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানির নাম শোনা গেলেও পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।
চুক্তি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে সূত্র জানিয়েছে। আগামী দুই মাসে দুই দেশের প্রতিনিধিরা পারমাণবিক, নিষেধাজ্ঞা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাবেন।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্য করুন