সোমবার
২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

ইসরায়েলি সংসদে বিক্ষোভের মুখে কক্ষ ছাড়লেন নেতানিয়াহু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৬, ০১:৫০ এএম
ইসরায়েলি সংসদে বিক্ষোভের মুখে কক্ষ ছাড়লেন নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের সংসদ নেসেটে বিরোধী আইনপ্রণেতাদের তীব্র বিক্ষোভ ও স্লোগানের মুখে কক্ষ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত মঙ্গলবার নেসেটে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিলের ওপর ভোটাভুটির আগে বিরোধী আইনপ্রণেতারা নেতানিয়াহুকে লক্ষ্য করে ‘লজ্জা!’ ও ‘চলে যান!’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ভোটে অংশ না নিয়েই সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তার অনুপস্থিতিতেই সরকারপক্ষ বিতর্কিত আইনগুলো পাস করাতে সক্ষম হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২৭ অক্টোবরের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নেতানিয়াহু নেতৃত্বাধীন সরকার দ্রুত একাধিক বিতর্কিত আইন নেসেটে পাসের উদ্যোগ নেয়। শুক্রবার পার্লামেন্ট ভেঙে যাওয়ার আগে এসব আইন অনুমোদন করা হয়।

পাস হওয়া আইনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হলো অতি-রক্ষণশীল ইহুদি সম্প্রদায়ের তরুণদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতির পথ আরও সুসংহত করা।

ইসরায়েলের আইনে ১৮ বছর বয়সী প্রায় সব নাগরিকের জন্য সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক। তবে ঐতিহাসিকভাবে হারেদি পুরুষদের বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট অতীতে একাধিকবার এই ব্যবস্থা বাতিল করলেও বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ অন্তত ১২ হাজার সেনার ঘাটতির কথা জানিয়েছে। একই সময়ে সামরিক সেবার উপযুক্ত প্রায় ৭২ হাজার হারেদি যুবক সেনাবাহিনীতে যোগ দেননি। ফলে নিয়মিত ও রিজার্ভ সেনাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

ব্যাপক জনবিরোধিতার মুখে সরকার সরাসরি অব্যাহতি আইন না এনে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করে। নতুন একটি মৌলিক আইনে তোরাহ অধ্যয়নকে রাষ্ট্রের মৌলিক মূল্যবোধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে সামরিক অব্যাহতির সাংবিধানিক ভিত্তি তৈরি করতে পারে বলে সমালোচকদের আশঙ্কা। পাশাপাশি আরেকটি আইনের মাধ্যমে ২০২৭ সালের জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত হাজার হাজার হারেদি সেনা-এড়িয়ে চলা ব্যক্তিকে অস্থায়ী আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।

ভোটের আগে আইডিএফ প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামির প্রকাশ্যে এই আইনকে সেনাবাহিনীর প্রয়োজনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এতে যারা সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের আস্থা ক্ষুণ্ন হতে পারে। তার এই বক্তব্যের পর নেতানিয়াহুর মিত্ররা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান। লিকুদ দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতা জামিরকে বরখাস্ত করার দাবি জানান।

আইনটি পাস হলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিরোধী দলগুলো হাই কোর্টে আবেদন করে। পরে আদালত আইনটির বাস্তবায়নের ওপর অস্থায়ী স্থগিতাদেশ জারি করে।

সামরিক নিয়োগ-সংক্রান্ত আইন ছাড়াও সরকার অ্যাটর্নি জেনারেলের ক্ষমতা সীমিত করার একটি বিল পাস করেছে। এটি সরকারের দীর্ঘদিনের বিচার বিভাগ সংস্কার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সমালোচকদের মতে, এর মাধ্যমে সরকার আইনি ব্যাখ্যাকে উপেক্ষা করতে পারবে এবং অ্যাটর্নি জেনারেল গালি বাহারাভ-মিয়ারাকে অপসারণের নতুন পথ তৈরি হতে পারে।

এছাড়া সম্প্রচার খাতের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা পরিবর্তনের একটি আইনও পাস হয়েছে, যা সমালোচকদের মতে সরকারের গণমাধ্যমের ওপর প্রভাব বাড়াবে এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নারী-পুরুষের পৃথক শিক্ষাক্রম সম্প্রসারণের আইনও অনুমোদন পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও নারী অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এটি নারীদের অংশগ্রহণ সীমিত করবে, সমতা নষ্ট করবে এবং উচ্চশিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

এদিকে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ অধিকৃত পশ্চিম তীরে নতুন বসতি স্থাপনের জন্য প্রায় ২৪০ কোটি শেকেল (প্রায় ৭৯ কোটি মার্কিন ডলার) বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি পূর্বের সিদ্ধান্ত প্রকাশ করে আরও ৩৪টি নতুন আউটপোস্টকে বৈধতা দেওয়ার কথাও জানান। তার দাবি, বর্তমান সরকারের আমলে নতুন অনুমোদিত বসতির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৪টিতে।

সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৬৬ শতাংশ ইসরায়েলি তোরাহ অধ্যয়নকে মৌলিক আইনে অন্তর্ভুক্ত করার বিরোধিতা করছেন। এছাড়া ৬১ শতাংশ নাগরিক চান, আগামী সরকারে হারেদি দলগুলোকে অন্তর্ভুক্ত না করা হোক।

বিরোধী নেতারা বিষয়টিকে নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান ইস্যুতে পরিণত করেছেন। ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোট এই আইনকে "রাষ্ট্রের বিনিময়ে রাজনৈতিক জোট রক্ষার বেপরোয়া চুক্তি" বলে আখ্যা দিয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও সরকারকে সেনাসদস্য, তাদের পরিবার এবং জনগণের প্রতি অবমাননা প্রদর্শনের অভিযোগ তুলেছেন।

নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রী মনে করেন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিতর্কিত আইনগুলো নিয়ে সমালোচনা কমে আসবে। তাদের মতে, রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ জোট ধরে রাখা যেকোনো একটি আইনকে ঘিরে তৈরি হওয়া অজনপ্রিয়তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আদালতের সঙ্গে সম্ভাব্য আইনি লড়াই সরকারের বিচারবিরোধী রাজনৈতিক প্রচারণাকে আরও জোরালো করতে পারে বলেও মনে করছেন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠরা।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অবশেষে ঝিকরগাছায় নির্মিত হচ্ছে মডেল মসজিদ

অভয়নগরে পানিবন্দি পরিবারের মাঝে রান্নার চুলা বিতরণ

মণিরামপুরে ঢালী ব্রিকসের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অভিযোগ

মণিরামপুরে বনফুল অ্যান্ড কোংকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

ঝিনাইদহে ১১২ ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুদানের চেক ও গাছের চারা বিতরণ

হস্তান্তরের আগেই মোরেলগঞ্জে মাদ্রাসার নতুন ভবনে ফাটল, ক্ষুব্ধ শিক্ষক-অভিভাবক

মাগুরায় স্কুলছাত্রী রাজিয়া হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

যশোরে অনলাইন জুয়া কান্ডে নারী আটক

ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে যশোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের নৌরিন

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর পূর্ণ হচ্ছে কাল, নিহতদের স্মরণ, আহতদের সুস্থতা কামনা

চুয়াডাঙ্গায় শিশু মরিয়ম ধর্ষণ ও হত্যা: আসামির মৃত্যুদণ্ড

পুরোনো ভবন ভাঙতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু

ইউক্রেনের রাতভর রাশিয়ায় শত শত ড্রোন হামলা

রূপদিয়ায় ভুয়া ডিবি সেজে চাঁদাবাজি, আটক ১

৭ বিভাগে মুষলধারে বৃষ্টির আভাস,রাজধানীতে জলাবদ্ধতার শঙ্কা

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হলেন রাশেদ খাঁন

যশোর হাসপাতালের সামনে তর্কাতর্কি, যুবককে পিটিয়ে জখম

বিজিবির অভিযানে ৪৮৬ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ উদ্ধার

শার্শায় ট্রলি-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩

আরজু স্মরেণ বারীনগর বাজারে চক্ষু ক্যাম্প আগামীকাল

X