বৃহস্পতিবার
২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

ইরান যুদ্ধের খরচে ‘দিশাহারা’ যুক্তরাষ্ট্র, বাড়ছে তহবিল সংকট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৫ এএম
ইরান যুদ্ধের খরচে ‘দিশাহারা’ যুক্তরাষ্ট্র, বাড়ছে তহবিল সংকট

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে কংগ্রেসের আইনপ্রণেতাদের এক শুনানিতে তিনি এ তথ্য জানান। ইরানে নতুন করে ভারী বোমাবর্ষণ শুরুর পর এই প্রথম তিনি কংগ্রেসে হাজির হয়ে যুদ্ধের জন্য জরুরি অতিরিক্ত তহবিলের আবেদন করেন।

হেগসেথ জানান, ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলারের হিসাবের মধ্যে যুদ্ধের নির্দিষ্ট কয়েকটি খাতের ব্যয় রয়েছে। পাশাপাশি আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সম্ভাব্য খরচও এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে পেন্টাগন কীভাবে এই ব্যয়ের হিসাব নির্ধারণ করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত মার্চে একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ শুরুর প্রথম ছয় দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১ হাজার ১৩০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছিল।

এদিকে গত মাসে কংগ্রেসের কাছে আরও প্রায় ৯ হাজার কোটি ডলার অতিরিক্ত তহবিল চেয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর বড় একটি অংশ ইরান যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে ব্যবহারের কথা রয়েছে। যুদ্ধ নিয়ে আইনপ্রণেতাদের অসন্তোষ এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই তহবিল চাওয়াকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কংগ্রেসের নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান পার্টি প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। অন্যদিকে বিভিন্ন জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাটরা তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা ইরান যুদ্ধের বিপুল ব্যয়ের বিষয়টির সঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক চাপের বিষয়টি যুক্ত করে সমালোচনা করছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বোমাবর্ষণ শুরু করে। এরপর থেকেই রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক—উভয় দলের আইনপ্রণেতারা অভিযোগ করে আসছেন, সংঘাতের বিষয়ে তাঁদের যথেষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি এবং ভবিষ্যৎ সামরিক পরিকল্পনাও তাঁদের কাছে পরিষ্কার নয়।

শুনানিতে বরাদ্দবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্যাটি মারে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সংঘাত বাড়ানো ও যুদ্ধাপরাধের হুমকি দিচ্ছেন। তাঁর কথা শুনে মনে হচ্ছে, এটি আরেকটি অনন্তকালের যুদ্ধ হতে যাচ্ছে।’ ট্রাম্প এর আগে বারবার ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোসহ বিভিন্ন স্থানে হামলার কড়া হুমকি দিয়েছেন। সমালোচকদের মতে, এ ধরনের হামলা চালালে তা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুবই সামান্য। এ কারণে এমন বরাদ্দবিষয়ক বিল পাস করতে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনের প্রয়োজন হবে।

ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ড বলেন, ‘মানুষ আপনাদের ও প্রশাসনের ওপর এত ক্ষুব্ধ কেন জানেন? কারণ, অতীতে আপনারা যা বলেছেন, তার সঙ্গে কাজের কোনো মিল নেই। আপনারা বলেন যুদ্ধ শেষ, আবার বলেন শেষ হয়নি। দুই সপ্তাহ লাগবে, আবার বলেন লাগবে না। কখনো বলেন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হবে, আবার বলেন হবে না।’

প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ আইনপ্রণেতাদের আরও জানান, জরুরি ভিত্তিতে তহবিল না বাড়ালে সামরিক প্রশিক্ষণ কমিয়ে দিতে হবে। এ যুদ্ধ পেন্টাগনের প্রায় ১ ট্রিলিয়ন (১ লাখ কোটি) ডলারের বাজেটের ওপর মারাত্মক চাপ ফেলছে। ফলে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার তহবিলও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

শুনানিতে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সম্ভাব্য এ ব্যয় সংকটের কথা স্বীকার করেন। বলেন, সেনাসদস্যদের বেতন কীভাবে দেওয়া হবে, তা তাঁরা বের করে নেবেন। তবে সামরিক সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করতে গিয়ে পেন্টাগনকে হিমশিম খেতে হতে পারে।

হেগসেথ আইনপ্রণেতাদের শুধু অতিরিক্ত তহবিলের অনুরোধই রক্ষা করতে বলেননি, বরং ২০২৭ সালের জন্য পেন্টাগনের ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন (দেড় লাখ কোটি) ডলারের বাজেট পাসেরও আহ্বান জানান।

হেগসেথ বলেন, ‘আমি মনে করি, এই বিভাগকে দেড় ট্রিলিয়ন ডলারের তহবিল না দেওয়াই বর্তমানে আমাদের জাতির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।’

চলতি মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যায়। এর পর থেকে উভয় পক্ষ একে অপরের ওপর নিয়মিতভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

গত সপ্তাহান্তে ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৮–তে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন প্রায় ৪৩০ সেনা। পেন্টাগন গত সোমবার জানিয়েছে, ৭ জুলাইয়ের পর থেকে ১০০ সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। তবে তাঁদের মধ্যে ৯৬ শতাংশই আবার কাজে ফিরেছেন।

এরই মধ্যে ইরানে হামলার পরিধি আরও বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। এ ছাড়া ইরানের খারগ দ্বীপের তেলক্ষেত্র দখলে স্থলবাহিনী পাঠানো এবং ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামে গভীর ভূগর্ভস্থ একটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুমকিও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

মঙ্গলবার ট্রাম্প আবারও বলেছেন, পাহাড়ের গভীরে অবস্থিত ওই পারমাণবিক স্থাপনা ‘খুব শিগগির’ ধ্বংস করে দেবে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে ইরান যুদ্ধকে ঘিরে সামরিক ব্যয়, কংগ্রেসের তহবিল বিতর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা—সব মিলিয়ে ওয়াশিংটনে চাপ বাড়ছে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সারাদেশে বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস

কেশবপুরে নারীদের স্বাবলম্বী করতে ছাগল বিতরণ

রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কমান্ড্যান্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ভারতে জেন-জি আন্দোলন ঠেকাতে শিক্ষার্থীদের ফোন!

মোল্লাপাড়ার জিতু হত্যার ঘটনায় চোর সুমন আটক

রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে রাজশাহী ওয়াসার এমডির সৌজন্য সাক্ষাৎ

বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ, এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার

ইলিশের ঘাট দখল নিয়ছে বড় পাঙ্গাস

শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের শাস্তির দাবিতে / যশোরে শনিবার স্বেচ্ছাসেবক দলের গণসমাবেশ

বন্যায় স্থগিত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ২৭ জুলাই

গাজী নজরুলের এমপি পদ বহাল থাকবে : চিফ হুইপ

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক হামলা

দেশের ৮ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টিসহ ঝড়ের আভাস

ফিকি এফডিআই কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

‘জীবন একটা কৌতুক’— কী ইঙ্গিত দিলেন নেইমার?

মণিরামপুরে নিখোঁজ ভ্যান চালকের মরদেহ দু'দিন পর বাঁওড় থেকে উদ্ধার

মেডেল অব মেরিট অ্যাওয়ার্ড পেলেন যবিপ্রবির আব্দুল ওয়াহেদ

নৌবাহিনী প্রধান পেলেন ভাইস অ্যাডমিরাল র‍্যাংক

বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় মেসি

X