
ঝিনাইদহের শৈলকূপার ওপর দিয়ে প্রবাহিত কুমার নদসহ বিভিন্ন জলাশয়ে ক্ষতিকর ‘চায়না দুয়ারী’ জালের ব্যবহার বেড়েই চলেছে। এসব জালের কারণে দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছ অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে। নদী ও জলাশয় রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলেও উদ্ধার করা জাল ধ্বংসের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
তাদের অভিযোগ, অভিযানে জালের সুতো আগুনে পুড়ে গেলেও এর ভেতরে থাকা ভারী লোহার রিং বা রড অক্ষত থেকে যাচ্ছে। পরে এসব রড হাতবদল হয়ে আবার চলে যাচ্ছে চায়না দুয়ারী জাল তৈরির গোপন কারখানায়। ফলে জাল ধ্বংসের নামে পরিচালিত অভিযান অসাধু কারবারিদেরই পরোক্ষভাবে সুবিধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার শৈলকূপার কুমার নদে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইমরান হোসাইনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চায়না দুয়ারী জাল উদ্ধার করা হয়। পরে সেগুলো জনসম্মুখে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, দৃশ্যত জাল পুড়লেও এর ভেতরের মূল কাঠামো ধ্বংস না হওয়ায় কার্যকর ফল পাওয়া যাচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগুনে জালের নাইলনের সুতো পুড়ে গেলেও ভেতরের শক্ত লোহার রড বা রিং সহজে নষ্ট হয় না। অভিযান শেষে পোড়া জালের অবশিষ্ট রড সংগ্রহ করে একশ্রেণির অসাধু ভাঙাড়ি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে এসব রড আবার চায়না দুয়ারী জাল তৈরির সঙ্গে জড়িতদের কাছে চলে যায়।
স্থানীয় পরিবেশকর্মী আব্দুল মান্নান বলেন, “নদীতে জাল ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। উদ্ধার হওয়া জালের রড দিয়ে আবার নতুন জাল তৈরি হচ্ছে। তাই মূল উৎপাদনকারী চক্রকে আইনের আওতায় আনতে হবে।”
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় শুধু নদী বা বাজারে অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; চায়না দুয়ারী জাল উৎপাদন ও মজুতের স্থানগুলোতে অভিযান চালাতে হবে। পাশাপাশি উদ্ধার করা জালের লোহার কাঠামো কেটে বা পিষে সম্পূর্ণ অকার্যকর করার ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা ও শৈলকূপা উপজেলা প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, লোক দেখানো অভিযান নয়, চায়না দুয়ারী জালের উৎপাদন ও সরবরাহ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে দেশীয় মাছের অস্তিত্ব রক্ষা পায়।
মন্তব্য করুন