
দক্ষিণ আমেরিকা ও ইউরোপের দুই চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও স্পেনের বহুল প্রত্যাশিত ফিনালিসিমা ম্যাচটি নানা জটিলতায় শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়ায়নি। তবে সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপ ফাইনালে দুই দলের লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামালের দ্বৈরথ দেখার সুযোগ পেয়েছেন ফুটবলপ্রেমীরা। এবার মেসির সম্মানে এবং তার সম্ভাব্য বিদায়ী ম্যাচ হিসেবে আর্জেন্টিনা-স্পেনের মধ্যে আরও একটি বিশেষ ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব উঠেছে।
এই প্রস্তাব দিয়েছেন আর্জেন্টিনায় নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত জোয়াকিন মারিয়া ডি আরিস্তেগি। আর্জেন্টিনার রেডিও মিত্রেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ওই ম্যাচ দিয়ে কেন মেসিকে বড় বিদায়ী অভ্যর্থনা দেওয়া যায় না?’
তবে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দেওয়া লিওনেল মেসি কবে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নেবেন, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। ফলে তার সম্মানে প্রস্তাবিত এই ম্যাচটি বাস্তবে অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়েও এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পর স্পেনের সাফল্য নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত জোয়াকিন মারিয়া। ইয়ামাল-রদ্রিদের এই সাফল্যকে তিনি ‘খুবই তাৎপর্যপূর্ণ’ এবং ‘সুশৃঙ্খল’ ফলাফলের মাধ্যমে পাওয়ার কথাও বলছেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিশ্বকাপ শেষে স্পেনে ফেরার পর জাতীয় দলের সংবর্ধনায়ও অংশ নিয়েছেন জোয়াকিন। যেখানে জনসমুদ্রে উষ্ণ সংবর্ধনা পান বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলাররা।
এই রাষ্ট্রদূতের কাছে বিশ্বকাপের ধারণাটি অত্যন্ত প্রতীকী তাৎপর্য বহন করত, কারণ এর মাধ্যমে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ তৈরি হতো কোপা আমেরিকা জয়ী (পাশাপাশি ডিফেন্ডিং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন) দলের। এই প্রেক্ষাপটে তার ভাষ্য, নির্বাচিত এই দুই দলের মধ্যকার লড়াই ফুটবলের জন্য একটি নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে এবং তিনি আশা প্রকাশ করেন যে ভবিষ্যতে এমন একটি ম্যাচের আয়োজন করা সম্ভব হবে।
এ ছাড়া বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়েও নিজের মতামত তুলে ধরেন জোয়াকিন মারিয়া। ছোটবেলা থেকেই কাতালান দলটির সমর্থক হওয়ায়, মাদ্রিদ সমর্থকদের কিছু মন্তব্যের কারণ হিসেবে তিনি সেই ‘ক্ষত’ বা ‘আঘাতের’ কথা উল্লেখ করেন—যা মেসি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, সার্জিও বুস্কেটস, কার্লোস পুয়োল, জেরার্ড পিকে ও জাভির নেতৃত্বাধীন দলটির দীর্ঘ আধিপত্যের ফলে সৃষ্টি হয়েছিল বলে তার দাবি।
স্পেন তার মাতৃভূমি, আর আর্জেন্টিনা তার কর্মস্থল—তাই বিশ্বকাপজুড়ে দুই দলের প্রতি তার আবেগ ছিল ভিন্ন রকম। তিনি জানান, স্পেনের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার ম্যাচগুলোও তিনি গভীর আগ্রহ নিয়ে অনুসরণ করেছেন। তবে ফাইনালে এসে সেই ব্যক্তিগত আবেগ একপাশে সরিয়ে রেখে নিজের দেশ স্পেনকেই সমর্থন করেছেন। তার ভাষায়, ফাইনালের মতো ম্যাচে কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ থাকে না—নিজের দলের পক্ষেই থাকতে হয়।
মন্তব্য করুন
২১ জুলাই ২০২৬, ০২:০৫ পিএম
২১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৫ পিএম