
ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। হামলায় সামরিক অভিযানকেন্দ্র, সামুদ্রিক সক্ষমতা, বিমান হ্যাঙ্গার, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সামরিক রসদ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তেহরান থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা তোহিদ আসাদি জানান, ইরানের রাজধানীজুড়ে ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ সময় তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়।
ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বুশেহরের কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সময়ে ফার্স নিউজ জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিক শহরের আশপাশেও একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।
প্রাদেশিক ডেপুটি গভর্নর ফার্স নিউজকে বলেন, ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশের বেহবাহান ও ওমিদিয়েহ শহরের নিকটবর্তী এলাকাগুলো মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী উত্তর-পশ্চিম ইরানের তাবরিজের উপকণ্ঠে একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
স্থানীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি বলেছে, স্থানীয় সময় ভোর ২টা ৪০ মিনিটে এ হামলা চালানো হয়। এটি শহরের নিকটবর্তী একটি সামরিক এলাকায় চালানো হলেও শহরের ভেতরে কোনো হামলা হয়নি।
এর আগে মঙ্গলবার কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ইরানি ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। চলতি মাসে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু হওয়ার পর কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ইরানের হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ মঙ্গলবার কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের ব্যয় ইতোমধ্যে ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে পেন্টাগনের আরও ৯০ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত তহবিল প্রয়োজন বলেও তিনি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন