
দুর্ঘটনা কিংবা অপচিকিৎসার শিকার হয়ে পা হারিয়ে যারা জীবনের আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন, তাদের জীবনের চাকা সচল রাখতে প্রতিনিয়ত নতুন আশার আলো জ্বালিয়ে যাচ্ছেন, যশোরের বিশিষ্ট অর্থোপেডিক সার্জন অধ্যাপক ডাক্তার এ এইচ এম আব্দুর রউফ।
অসচ্ছল মানুষদের বিনামূল্যে কৃত্রিম পা সংযোজন, ক্ষতিগ্রস্ত হাঁটু পরিবর্তন ও কাঁধের জয়েন্টের জটিল অস্ত্রোপাচারের পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থানের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন পঙ্গু হাসপাতালের এই কর্ণধর। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সানাবিল ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে যশোর পঙ্গু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় যশোর ও ঝিনাইদহের ছয়জন অসচ্ছল ব্যাক্তির মাঝে বিনামূল্যে কৃত্রিম পা প্রদান করা হয়। পা প্রাপ্তরা হলেন ঝিনাইদহের কালিগঞ্জের মোহাম্মদ রাসেল, বারোবাজারের মিজানুর রহমান, যশোরের চৌগাছার দিলিপ দাস ও ইমাম আলী, মণিরামপুরের আবুল খায়ের।
নতুন পা পেয়ে আবেগপ্লুত ঝিনাইদহের কালিগঞ্জের স্কুল পড়ুয়া মোহাম্মদ রাসেল জানান, আমি একটি সময় স্কুলে যেতাম, সকলের মত খেলাধুলা করতাম। একদিন বন্ধুদের সাথে ঘুরতে গিয়েছিলাম সেখানে এক সড়ক দুর্ঘটনায় আমার পা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক চিকিৎসা শেষে আমার একটি পা কেটে ফেলা হয়। অন্য একটি পা কিছু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে করে আমার স্বাভাবিকভাবে চলাচলে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। একটি সময় যশোরের মানবদরদী চিকিৎসক ডাক্তার আব্দুর রউফ স্যারের সন্ধান পাই তার সাথে আমার পরিবার যোগাযোগ করে এবং সানাবিল ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আমার নতুন পা পাওয়ার ব্যাবস্থা করেন। এই কৃত্রিম পা পেয়ে আমি আনন্দিত। আমি আবার স্কুলে যাবো আবার পড়াশুনা করবো, স্বাভাবিক ভাবে চলাফেরা করতে পারবো এটা আমি ভাবতেই পারছিনা। আমার নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি যাদের কারণে তাদের সকলের কাছে আমি এবং আমার পরিবার কৃতজ্ঞ।
কৃত্রিম পা সংযোজন অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ডাক্তার এ এইচ এম আব্দুর রউফ বলেন, পা হারানো অসচ্ছল মানুষদের পাশে আছি থাকবো। আমাদের যাদের পা আছে তারা আসলে বুঝতে পারবোনা যাদের পা নেই তাদের কি কষ্ট। আমরা বুঝতে পারবোনা তারা পরিবারে ও সমাজে কত কষ্ট করে থাকে। এই প্রজেক্টের মাধ্যমে আমি তাদের পাশে থেকে তাদের একটা পায়ের মাধ্যমে তাদের একটু সহযোগিতা করতে চাই।
সানাবিল ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এই পর্যন্ত আমরা ৬৬ জনকে কৃত্রিম পা দিতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র পা দেয়া নয়, উদ্দেশ্য অন্য মানুষদের মত তাদেরকে একটু এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। স্বাভাবিক জীবনযাপন হয়তো করতে পারবেনা। কিন্তু স্বাভাবিকের কাছাকাছি যেয়ে তারা যেনো কর্মক্ষম হতে পারে এবং কর্মক্ষম জীবনযাপন করে নিজের সংসার চালাতে সক্ষম হয়। এরা যেনো সমাজের বোঝা হয়ে না থাকে।
কৃত্রিম পা প্রদান অনুষ্ঠানে অন্যান্যেদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন রিহাব টেক-এর পরিচালক অসিত কুমার চক্রবর্তী, সানাবিল ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি রোকনুজ্জামান রনি, পঙ্গু হাসপাতালের সহকারী ম্যানেজার কামরুজ্জামান, চিকিৎসক সহকারি শাওন খান প্রমুখ।
মন্তব্য করুন