
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা ইউনিয়নকে ছানিমুক্ত ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), শিশু নিলয় ফাউন্ডেশন, আদ্-দ্বীন ওয়েলফেয়ার সেন্টার, যশোর আদ্-দ্বীন চক্ষু হাসপাতাল এবং অরবিস ইন্টারন্যাশনালের যৌথ আয়োজনে সোমবার পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাফফাত আরা সাঈদ। পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রশিদ এবং অরবিস ইন্টারন্যাশনালের অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর মো. ইকবাল হুসাইন।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন শিশু নিলয় ফাউন্ডেশনের পরিচালক (প্রোগ্রাম) রোজিনা আক্তার, আদ্-দ্বীন চক্ষু হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার মো. রবিউল হক, অরবিস ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. আলমগীর হোসেন এবং শিশু নিলয় ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম অফিসার মো. মোয়াজ্জেম হোসেন।
বক্তারা বলেন, ছানি বাংলাদেশের প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্বের অন্যতম প্রধান কারণ। সময়মতো রোগী শনাক্ত, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ছানিজনিত অন্ধত্ব অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। এ জন্য ইউনিয়নভিত্তিক জরিপ পরিচালনা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, রোগী শনাক্তকরণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাফফাত আরা সাঈদ বলেন, মানুষের দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ছানিমুক্ত ইউনিয়ন গঠনের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষ সহজেই চক্ষু চিকিৎসাসেবা পাবে এবং অন্ধত্বের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
সভায় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সকল ওয়ার্ড সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ছানিমুক্ত পানিসারা ইউনিয়ন বাস্তবায়নে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন ও মতবিনিময় করা হয়।
উল্লেখ্য, পানিসারা ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে ২৪ হাজার। এর মধ্যে চোখের বিভিন্ন সমস্যাসহ ছানি আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৫৮ জন বলে সভায় জানানো হয়।
মন্তব্য করুন