
ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, ‘অপারেশন সায়েকেহ’ বা ‘বজ্রপাত’ অভিযানের ১৯তম ধাপে কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অন্যায় আচরণ’ ও বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জবাবে মঙ্গলবার ভোরে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে কুয়েতের আরিফজান ঘাঁটির প্রশাসনিক ভবন ও ডাইরেকশন-ফাইন্ডিং অ্যান্টেনা, আল-উদেয়রি ক্যাম্পের হেলিকপ্টার পার্কিং এলাকা এবং আহমেদ আল-জাবের ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের আবাসন লক্ষ্য করে আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, আরিফজান ঘাঁটি দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন স্থলবাহিনীর সেনা মোতায়েন ও কমান্ড কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। অন্যদিকে, আল-উদেয়রি ক্যাম্পে মার্কিন নৌ ও বিমানবাহিনীর অ্যাপাচি, চিনুক ও ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার মোতায়েন রয়েছে।
এছাড়া আহমেদ আল-জাবের ঘাঁটি পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর রসদ ও সহায়তা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ঘাঁটিটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর আকাশ অভিযান ও নজরদারি কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে ইরান।
ইরানের সেনাবাহিনী ঘোষণা করেছে, মার্কিন 'সন্ত্রাসী' বাহিনীর অন্যায্য কর্মকাণ্ডের কারণে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে এবং ইরানের সশস্ত্র বাহিনী মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ের মাধ্যমে অঞ্চলে পুনরায় শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে, ইরানের হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা আরও দুর্বল করতে দেশটির বিরুদ্ধে নতুন উদ্যমে হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, টানা দশম রাতের মতো পরিচালিত এই হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি নিহত মার্কিন সেনাদের মৃত্যুর জন্য ইরানকে দায়ী করে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরই এই হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছিলেন, মার্কিন সেনা হত্যার জন্য ইরানকে ‘বহুগুণ মূল্য’ দিতে হবে।
মন্তব্য করুন