
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে আহত হয়ে যারা এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার কোনো ধরনের কার্পণ্য করবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। প্রয়োজন হলে আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারের সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে। পাশাপাশি আহতদের পুনর্বাসনেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বস্তের মর্মান্তিক ঘটনার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত শ্রদ্ধাঞ্জলি ও স্মরণসভায় এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এই দিনটি শুধু স্মরণ করার দিন নয়, বরং ঘটনাটি থেকে শিক্ষা নেওয়ারও দিন। ২০২৫ সালের ২১ জুলাই ঘটে যাওয়া ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং মানবিক দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।
সভায় নিহত শিক্ষিকা মেহেরিনের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, নিজের জীবনকে উপেক্ষা করে তিনি আগুনের মধ্যে থাকা শিশুদের উদ্ধারের চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর এই আত্মত্যাগের প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সিঙ্গাপুর, ভারত ও চীন থেকে আসা চিকিৎসক দল আহত শিশুদের চিকিৎসায় যে সহযোগিতা করেছে, তার জন্য তিনি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে দেশের চিকিৎসকদের নিষ্ঠা, মমত্ববোধ ও দায়িত্বশীলতারও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, জাতীয় দুর্যোগে বাংলাদেশের চিকিৎসকরা বারবার তাঁদের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, কিছুদিন আগে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের একটি প্রতিনিধি দল জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করে বার্ন ইউনিটের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন ও স্কিন ব্যাংকের কার্যক্রমের প্রশংসা করেছে। ভবিষ্যতে জ্ঞান, প্রযুক্তি, চিকিৎসাসেবা ও আধুনিক যন্ত্রপাতির দিক থেকে বার্ন ইউনিট আরও এগিয়ে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি থেকে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো মানবিকতা, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার চেতনা। বিদেশি চিকিৎসকদের সহায়তা, দেশীয় চিকিৎসকদের আন্তরিকতা এবং সরকারের সহযোগিতার মনোভাব মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধকে আরও শক্তিশালী করেছে।
আহত ও নিহতদের স্বজনদের বিভিন্ন দাবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভিভাবকদের আবেদন ও প্রত্যাশাগুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে। তিনি নিজেও তাদের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেবেন বলে আশ্বাস দেন।
সবশেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে আহত যারা এখনো চিকিৎসার ফলো-আপে রয়েছেন, তাদের চিকিৎসা অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে কারও আরও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সরকার পিছিয়ে থাকবে না। আহত ব্যক্তি ও শিশুদের জীবনমান উন্নয়ন এবং পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। তিনি আশ্বাস দেন, সরকার সবসময় তাদের পাশে থাকবে।
মন্তব্য করুন