
ইরানে টানা দশম রাতের মতো বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সিরিকের কাছে এবং বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ, চাবাহার ও কোনারাক এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংগঠনটির দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, কুয়েতের আহমেদ আল-জাবের ঘাঁটিতে একটি আগাম সতর্কীকরণ রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার ব্যবস্থা, এফপিএস-১১৭ রাডার, প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বিমান প্রতিরক্ষা স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। তাসনিম সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, পরবর্তী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আগে ওই অঞ্চলের রাডার কভারেজ দুর্বল করতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ইরানের বাহিনী আরো জানিয়েছে, তাদের সর্বশেষ সামরিক অভিযানে বাহরাইনের মুহাররাক এলাকায় একটি মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার ধ্বংস করা হয়েছে।
আইআরআইবি সম্প্রচার মাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, একটি সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় বাহরাইনের আল-রিফায় একটি মার্কিন প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে।
আইআরজিসি বলেছে, পরবর্তী অভিযানের পথ সুগম করার উদ্দেশ্যেই এই হামলাগুলো চালানো হয়েছিল।
ট্যাংকারে বিস্ফোরণ সম্পর্কে আইআরজিসি জানিয়েছে, একটি বিস্ফোরণের পর হরমুজ প্রণালীর অনিরাপদ দক্ষিণ পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকারী দুটি তেল ট্যাংকারে ‘ভয়াবহ আগুন’ লেগেছে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, উদ্ধারকারী দলগুলো জাহাজগুলোর নাবিকদের সরিয়ে নিচ্ছে।
সংস্থাটি আবারও জাহাজ কোম্পানিগুলোকে তাদের নাবিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে, ‘মার্কিন সেনাবাহিনীর দেওয়া মিথ্যা তথ্যে’ বিশ্বাস না করতে এবং বিপজ্জনক হিসেবে বর্ণিত পথগুলো এড়িয়ে চলতে সতর্ক করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এটা স্পষ্ট যে, এই অঞ্চলে আমেরিকার অপকর্ম যতদিন চলবে, হরমুজ প্রণালী ততদিন বন্ধ থাকবে এবং এই অঞ্চল থেকে এক ফোঁটা তেল, গ্যাস বা এক প্যাকেট রাসায়নিক সারও রপ্তানি করা হবে না।
এক সপ্তাহে অন্তত তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, আমেরিকান সৈন্যদের মৃত্যুর জন্য তাদের ‘বহুগুণ’ মূল্য দিতে হবে।
এদিকে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে একটি সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করেছে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহকে আরও ব্যাহত করার হুমকি দিচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা।
মন্তব্য করুন
২০ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম
২০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম