
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে আগামী বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার আবেদন জানান।
শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে মোজাফফর হোসেন বর্তমানে মিলিটারি পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকায় তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন করা হয়েছে।
শুনানি শেষে আদালত আগামী বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেন।
এ সময় প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, সহিদুল ইসলাম সরদার, শাইখ মাহদী, মঈনুল করিমসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, মেজর (অব.) মোজাফফরের বিচার সেনা আইনে জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর পিলখানায় শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মেজর (অব.) মোজাফফরের সহযোগীদের বিচারও সামরিক আদালতে হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ভিন্ন পরিচয়ে পার্শ্ববর্তী একটি দেশে পলাতক ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সেনা আইনে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে তার বিচার নিশ্চিত করা হবে।
উল্লেখ্য, মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন প্রায় ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন। গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মন্তব্য করুন