
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলার সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে মোংলা নদীর ওপর স্থায়ী সেতু নির্মাণের প্রকল্পটি সরকারের মেগা-কানেক্টিভিটি পরিকল্পনার আওতায় অগ্রাধিকার তালিকায় স্থান পেয়েছে। প্রায় ১৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ের এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এখন আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংগ্রহের চূড়ান্ত ধাপ চলছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (আরএইচডি) ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, ১৩৯.৯৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রাক্কলিত ব্যয়ের এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকার বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকা ও সৌদি ফান্ডের মতো উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে নিবিড় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। মোংলা বন্দর এবং ইপিজেডের পণ্য পরিবহনে ফেরি পারাপারের দীর্ঘসূত্রতা নিরসন ও বন্দরের সক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। প্রকল্পটি সরকারের ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এখন গতি পেয়েছে।
প্রকল্পটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে খোঁজখবর রাখা মোংলা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তালুকদার নাসির মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে দেওয়া এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, "আলহামদুলিল্লাহ, সুখবর মোংলাবাসীর জন্য। বিদেশি অর্থায়ন সংগ্রহের জন্য প্রস্তাবিত ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের তালিকায় মোংলা ব্রিজ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সম্ভাব্য ব্যয় ১৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। মোংলা ব্রিজ এখন সময়ের দাবি। আমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে যাঁরা কাজ করছেন, বিশেষ করে মাননীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।"
প্রকল্পটির প্রতি স্থানীয় পর্যায়ের সমর্থন আরও সুসংহত হয়েছে মোংলা পৌর বিএনপি সভাপতি ও সাবেক মেয়র জুলফিকার আলীর ইতিবাচক মন্তব্যের মধ্য দিয়ে। তিনি বলেন, “মোংলাবাসীর দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত এই সেতু নির্মাণে আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে মোংলার উন্নয়ন ও জনস্বার্থকে আমরা প্রাধান্য দিচ্ছি। আমরা চাই, কোনো প্রকার আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ছাড়া দ্রুত এই প্রকল্পটি দৃশ্যমান হোক।”
সরকারের ‘ফরেন এইড পাইপলাইন’ বা বিদেশি অর্থায়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রকল্পটি বর্তমানে প্রশাসনিক অনুমোদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের তদারকি এবং স্থানীয় প্রতিনিধিদের সমন্বিত প্রয়াসে প্রকল্পটি খুব দ্রুতই দাতা সংস্থার অর্থায়নের মুখ দেখবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন