
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রতিরক্ষামূলক সামরিক অভিযান’ পরিচালনায় ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। এর মধ্য দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সময় নেওয়া নীতিই বহাল রাখল বর্তমান ব্রিটিশ সরকার।
ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৭ জুলাই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, ওই বৈঠকেই মার্কিন সামরিক অভিযানে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে ২০২৬ সালের মার্চে ইরানে সামরিক হামলা পরিচালনার জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার প্রথমে মার্কিন অনুরোধে সম্মতি দেননি। তিনি জানিয়েছিলেন, যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন ও সংশ্লিষ্ট আইনি শর্ত পূরণ নিশ্চিত করা জরুরি।
তবে পরে ইরান ব্রিটেনের আঞ্চলিক মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পর স্টারমার তার অবস্থান পরিবর্তন করেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রকে ইংল্যান্ডের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি এবং ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়া ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে বা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে ওয়াশিংটন আরও কঠোর সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাবে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের জবাব হবে ‘দশ গুণ বেশি কঠোর’।
মন্তব্য করুন
২১ জুলাই ২০২৬, ০২:০৫ পিএম
২১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৫ পিএম