
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ ও সংসদীয় তদন্ত দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা।
বুধবার (২২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি জানান।
ডা. তাসনিম জারা বলেন, অভিযোগের বিষয়ে যথেষ্ট প্রাথমিক প্রমাণ সামনে এসেছে। তাই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত। অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যেন কলঙ্কমুক্ত হন। আর অভিযোগ সত্য হলে মহান সংসদের মর্যাদা রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সামনে যে সম্ভাবনাটি এসেছে, সেটিকে কোনো সাধারণ কেলেঙ্কারি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়টি হলো—জামায়াতে ইসলামীর একজন সংসদ সদস্য তার পদ ও ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে চাকরির প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে এক অসহায় তরুণীকে একা একটি কক্ষে নিয়ে গেছেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা তদন্ত করে দেখা দরকার। তবে সম্ভাবনা আর প্রমাণ এক বিষয় নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, বিষয়টি সংসদের এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
ডা. তাসনিম জারা বলেন, সিভি অনুযায়ী তার বয়স মাত্র ১৮। এসএসসি শেষ হওয়া মাত্রই যেহেতু চাকরি খুঁজছেন, তাই অনুমান করা যায় বাড়িতে অভাব। এই রকম সংসারে একটা চাকরি মানে শুধু চাকরি না। মানে মায়ের ওষুধ, ছোট ভাইয়ের ফিজিক্স টিচারের বেতন, বৃষ্টি এলে যে টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে তা সারানো।
এ দেশে গরিবের চাকরি হয় কীভাবে? এমন প্রশ্ন করে তিনি জবাবে বলেছেন, পরীক্ষা দিয়ে, লাইনে দাঁড়িয়ে। আর সবশেষে, কোনো ক্ষমতাবান মানুষের দরজায় গিয়ে সুপারিশ নিয়ে। এলাকার সবচেয়ে ক্ষমতাবান মানুষটির নাম এমপি সাহেব।
ডা. তাসনিম জারা লিখেছেন, ‘একদিন সিভিটা এমপি সাহেবের কাছে পৌঁছাল। হয়তো মেয়েটি নিজে নিয়ে গিয়েছিল, হয়তো পরিবারের কেউ। ভরসা নিয়ে গিয়েছিল। যেভাবে গরিব মানুষ ক্ষমতাবানদের দ্বারস্থ হয়। সিভিতে সই পড়ল। জোর সুপারিশ করা হলো। কিন্তু সুপারিশের দাম হিসেবে মেয়েটিকে কী দিতে হয়েছে? হয়তো কিছুই না। হয়তো সবকিছু। আমরা জানি না।
ডা. তাসনিম জারা বলেন, আর সংসদ যদি চুপ করে থাকে? তাহলে সেই নীরবতার মানে একটাই। এই সংসদ হয়েছে গরিবকে শোষণ করার জন্য। অথবা গরিবের মেয়ে এমপির দরজায় গেলে যা ইচ্ছা তা-ই করার জন্য।
তিনি বলেন, এখানে আরেকটা কথা না বলে পারছি না। এই যে সুপারিশের ব্যবস্থা, ক্ষমতাবানের এক লাইনের সইয়ে চাকরি হয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা, এটা কি শুধু এই একটা ঘটনার সমস্যা? প্রতিটা নির্বাচনে প্রতিটা দল আমাদের কথা দেয়, দুর্নীতিমুক্ত দেশ, জিরো টলারেন্স। অথচ সরকার বদলায়, দল বদলায়, সুপারিশের ব্যবস্থাটা বদলায় না।
এই একটা জায়গায় সব দল একমত উল্লেখ করে ডা. তাসনিম জারা বলেন, কেন? যার সই ছাড়া চাকরি হয় না, সেই গরিব মানুষটাকে জিম্মি রাখার জন্যই কী? আজকের গল্পটা দেখিয়ে দিল, এই জিম্মিদশার দাম কোথায় গিয়ে ঠেকতে পারে।
মন্তব্য করুন