
নির্ধারিত উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করে অব্যয়িত ৩৪ লাখ ৩৮ হাজার ২৯৯ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলা প্রশাসন। সততা, স্বচ্ছতা ও সুশাসনের এ উদ্যোগ স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গোপালপুর ও মঘিয়া ইউনিয়নের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচসুবিধা নিশ্চিত করতে দুটি খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রকল্পটির জন্য মোট বরাদ্দ ছিল ৭৭ লাখ ৩৩ হাজার ১৪২ টাকা। তবে কার্যকর তদারকি ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কাজ শেষ করতে ব্যয় হয় ৪২ লাখ ৮৪ হাজার ৮৪৩ টাকা। ফলে উদ্বৃত্ত থাকা ৩৪ লাখ ৩৮ হাজার ২৯৯ টাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী হাসানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়।
প্রকল্পের আওতায় গোপালপুর ইউনিয়নের দড়িটানা থেকে বলেশ্বর নদীর সংযোগ পর্যন্ত এক কিলোমিটার এবং মঘিয়া ইউনিয়নের কুন্ডু বাড়ি থেকে স্বপন মাঝির বাড়ি পর্যন্ত এক কিলোমিটার কাঠালিয়া খাল পুনঃখনন করা হয়েছে।
এ ছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণের অংশ হিসেবে খালের দুই পাড়ে ৮০০টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের যাতায়াত সহজ করতে এবং পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে নির্মাণ করা হয়েছে পাইপ কালভার্ট ও কাঠের পুল।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুদেব কৃষ্ণ বলেন, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ইউএনওর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা হয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যয় ব্যবস্থাপনার কারণেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সরকারি অর্থ সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক ও প্রবীণদের মতে, খাল পুনঃখননের ফলে কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং প্রশাসনের এ উদ্যোগ সরকারি অর্থ ব্যবহারে দায়িত্বশীলতার একটি অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
মন্তব্য করুন