
যশোর শহরের মোল্লাপাড়ার আলোচিত জিতুকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় মাঠপাড়ার সুমন ওরফে চোর সুমনকে আটক করেছে সদর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা।রাত্দিেই নিজ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে বেরিয়ে আসছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। দুই পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করা হচ্ছে।
নিহত জিতুর চাচাতো ভাইয়ের অভিযোগ, সুমন, তার স্ত্রী, শরিফ, সুকুরন বেগম, তুষার ও রিপন পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে জিতুর ওপর হামলা চালায়। এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, অপর পক্ষের দাবি, ঘটনার রাতে জিতু বাকিতে পাঁচ পিস ইয়াবা নিতে সুমনের মা সুকুরন বেগমের কাছে যান। সুকুরন বেগম বাকিতে ইয়াবা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে জিতু সুকুরন বেগমের গলা চেপে ধরেন। তাকে বেধরক মারপিট করে। পরে সুমনের স্ত্রী এগিয়ে এলে তাকেও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়। তাদের রক্ষায় সুমন ও আরও দুজন ঘটনাস্থলে এসে জিতুকে কুপিয়ে জখম করে। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ আমানুল্লাহ জানান, ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সুমনকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সুমনের মা বর্তমানে বাড়িতেই অবস্থান করছেন। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত জিতুর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তার কর্মকাণ্ডে পরিবারের সদস্যরাও অতিষ্ঠ হয়ে তাকে একাধিকবার প্রশাসনের হাতে তুলে দিয়েছিলেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। তবে পরে তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও আটক সুমন ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মাদকসংশ্লিষ্ট নানা অভিযোগ রয়েছে।
মন্তব্য করুন
২২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম
২২ জুলাই ২০২৬, ১০:৩১ পিএম