
বছরের এই সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। জমে থাকা পানি, ড্রেনের পানি এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ মশার বংশবিস্তারের অন্যতম কারণ। মশা শুধু বিরক্তির কারণই নয়, এর মাধ্যমে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগও ছড়াতে পারে। তাই মশার উপদ্রব কমাতে ঘর পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রাকৃতিক পদ্ধতিও ব্যবহার করা যেতে পারে।
রাসায়নিক মশা নিরোধক পণ্যের বিকল্প হিসেবে ঘরোয়া উপায়ে মশা দূর করতে লেবু ব্যবহার করতে পারেন। লেবুর সঙ্গে লবঙ্গ, ভিনেগার ও নিমপাতা ব্যবহার করে সহজেই তৈরি করা যায় কিছু প্রাকৃতিক মশা প্রতিরোধী উপকরণ।
লেবু ও লবঙ্গ মশা দূর করার সহজ ঘরোয়া পদ্ধতিগুলোর একটি হলো লেবু ও লবঙ্গের ব্যবহার। প্রথমে একটি মাঝারি বা বড় আকারের লেবু নিয়ে মাঝ বরাবর দুই ভাগ করে নিন। এরপর লেবুর দুই অংশে কয়েকটি লবঙ্গ গেঁথে মশার উপদ্রব বেশি এমন স্থানে রেখে দিন। লেবু শুকিয়ে গেলে এর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে, তাই প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন লেবু ব্যবহার করা ভালো।
লেবুর রস দিয়ে স্প্রে একটি স্প্রে বোতলে পানি নিয়ে তাতে লেবুর রস মিশিয়ে নিতে পারেন। এরপর ঘরের বিভিন্ন কোণ, জানালার আশপাশ, পড়ার টেবিলসহ মশার আনাগোনা বেশি এমন স্থানে এই মিশ্রণ স্প্রে করা যায়। চাইলে লেবুর রসের সঙ্গে সামান্য ভিনেগারও মেশানো যেতে পারে।
লেবুর খোসার ব্যবহার লেবু ব্যবহারের পর খোসা ফেলে না দিয়ে মশা বেশি আসে এমন স্থানে রাখতে পারেন। বিশেষ করে চুলা, জানালা বা ময়লার বক্সের আশপাশে লেবুর খোসা রাখা যেতে পারে। এতে ওইসব স্থানে মশার উপস্থিতি কমানোর ক্ষেত্রে কিছুটা উপকার পাওয়া যেতে পারে।
লেবু ও ভিনেগারের মিশ্রণ লেবুর রস ও ভিনেগার ভালোভাবে মিশিয়ে একটি স্প্রে তৈরি করা যায়। ঘরের বিভিন্ন স্থানে এই মিশ্রণ ব্যবহার করলে মশা প্রতিরোধের পাশাপাশি স্যাঁতসেঁতে গন্ধ কমাতেও সহায়ক হতে পারে।
মেঝে পরিষ্কারে লেবুর রস ঘরের মেঝে পরিষ্কার করার সময় পানির সঙ্গে অল্প পরিমাণ লেবুর রস মিশিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে ঘর পরিষ্কারের পাশাপাশি লেবুর সতেজ গন্ধও পাওয়া যায়। তবে মেঝের উপকরণ অনুযায়ী পরিষ্কারক ব্যবহারের উপযোগিতা আগে যাচাই করে নেওয়া উচিত।
লেবু ও নিমপাতার মিশ্রণ লেবুর রসের সঙ্গে নিমপাতা মিশিয়ে একটি প্রাকৃতিক মিশ্রণ তৈরি করে ঘরের বিভিন্ন স্থানে ছিটিয়ে দেওয়া যেতে পারে। মশার উপদ্রব বেশি এমন জায়গায় এটি ব্যবহার করা যায়।
লেবু সহজলভ্য ও তুলনামূলকভাবে কম খরচের একটি প্রাকৃতিক উপাদান। রাসায়নিক মশা নিরোধক ব্যবহারের পাশাপাশি ঘর পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ করা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাই মশা নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায়। ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করলেও ডেঙ্গু বা অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি।
মন্তব্য করুন