
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতারা বলেছেন, ইসলামী শ্রমনীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব। তাদের দাবি, বর্তমান শ্রম আইন শ্রমিকদের প্রকৃত অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখতে পারেনি। তাই শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা, মালিক-শ্রমিকের সুসম্পর্ক গড়ে তোলা এবং শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় ইসলামী শ্রমনীতির বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) যশোর শহরের বিডি হলে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন যশোর জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ‘দায়িত্বশীল সমাবেশে’ এসব বক্তব্য তুলে ধরেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা।
যশোর জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য আব্দুল মালেক খান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, "প্রচলিত শ্রম আইন শ্রমিকদের প্রকৃত মুক্তি ও অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। একমাত্র ইসলামী শ্রমনীতিই পারে মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি করে শ্রমিকের ঘামের সঠিক মূল্য দিতে।" দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে তিনি শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
বিগত সরকারগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, "দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমরা প্রায় ৫৫ বছর পার করছি। এদেশে যখন যারা ক্ষমতায় আসেন, তারা শ্রমিকদের নিয়ে অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলেন। কিন্তু বাস্তবে বিগত ৫৫ বছরে বাংলাদেশের শ্রমিকদের ভাগ্য উন্নয়নে কোনো সরকারকে আন্তরিক পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। সরকার আসে, সরকার যায়, নীতি বদলায়, বাজেট আসে-যায়; অথচ শ্রমিকদের ভাগ্যের চাকা কখনো ঘোরে না।
কৃষি শ্রমিকদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, "পার্লামেন্টে যখন বলা হয় বাংলাদেশ কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ, তখন মন্ত্রীরা ভুলে যান যে এদেশের কৃষি শ্রমিকরা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, এমনকি বজ্রপাতে প্রাণ দিয়ে এই ফসল ফলিয়েছেন। সরকার বাহবা নিলেও কৃষকদের প্রকৃত সম্মান দেওয়া হচ্ছে না।" তিনি শোষণমুক্ত সমাজ ও ইনসাফের রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনকে মাঠে-ময়দানে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যশোর জেলা আমীর, কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য এবং যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল। তিনি দল-মত নির্বিশেষে সকল শ্রমজীবী মানুষকে আপন করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "শ্রমিকদের যেকোনো অসুস্থতা, দুর্ঘটনা, পারিবারিক বা জমি-জমা সংক্রান্ত সমস্যা এবং প্রশাসনিক প্রয়োজনে আমাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। এভাবে সামাজিক কাজের মাধ্যমে প্রতিটা মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারলে শ্রমিক সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে এবং জনগণের সাথে বন্ধন মজবুত হবে।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক আক্তারুজ্জামান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রিয় সদস্য অধ্যাপক মশিউর রহমান, যশোর ৫ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, সরকারি এমএম কলেজের সাবেক ভিপি আব্দুল কাদের, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি বেলাল হুসাইন, গোলাম কুদ্দুস, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবুল হাশেম রেজা। আরও বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের দপ্তর সম্পাদক নূর ই আল মামুন, যশোর জেলা সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম হান্নান, সদস্য রবিউল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, আশিকুল্লাহ, মনিরুজ্জামান। সমাবেশে সঞ্চালনা করেন জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সরকারি সেক্রেটার সাইফুর রহমান।
এছাড়াও সমাবেশে যশোর জেলার বিভিন্ন উপজেলার সভাপতিবৃন্দ ও স্থানীয় শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা তৃণমূল পর্যায়ে ইসলামী শ্রমনীতির বার্তা পৌঁছে দেওয়ার এবং শ্রমিকদের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন