সোমবার
২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩

পুকুর থেকে উদ্ধার হল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবিস্ফোরিত বোমা

কক্সবাজার সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৪০ পিএম
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবিস্ফোরিত বোমা উদ্ধার

কক্সবাজারের রামু উপজেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামে অবস্থিত পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একটি অবিস্ফোরিত বোমা। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো—গত প্রায় ১০ বছর ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা ওই বোমার ওপর দাঁড়িয়ে কাপড় ধুয়ে আসছিলেন, অথচ এর ভয়াবহ বিপদের বিষয়ে কেউই সচেতন ছিলেন না।

শনিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি জানান, বোমাটি রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের লট উখিয়াখোনা তচ্ছাখালী এলাকায় অবস্থিত একটি পুকুরের পাড় থেকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত একটি জাপানি বাহিনীর তৈরি অবিস্ফোরিত বোমা হতে পারে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক দশক আগে পুকুরে থাকা বোমাটি কেউ তুলে পাড়ে রেখে যায়। এরপর দীর্ঘদিন ধরে সেটিকে সাধারণ লোহার বস্তু ভেবে স্থানীয়রা কাপড় ধোয়ার কাজে ব্যবহার করতেন।

ঘটনাটি নজরে আসে যখন এক সচেতন স্থানীয় নাগরিক বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। এরপর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে।

রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, বোমা উদ্ধারের পর পুরো এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে এবং তাদের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার কার্যক্রম শুরু করেছে।

এদিকে স্থানীয় প্রশাসনও বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। বোমাটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করার পাশাপাশি, এটি যদি সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় প্রমাণিত হয়, তাহলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণের একটি প্রস্তাবও উঠেছে।

রামুর ইতিহাস গবেষক ও আইনজীবী শিরূপন বড়ুয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বোমাটির দুটি ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, এই বোমাটির ওপর বহু বছর ধরে মানুষ কাপড় কাচতো। যদি এতে আর কোনো বিস্ফোরক উপাদান না থাকে, তাহলে এটি সংরক্ষণ করা উচিত। এটি রামুর ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বোমাটি সম্ভবত জাপানিদের তৈরি এবং বর্তমানে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে।

স্থানীয়দের বর্ণনায় জানা গেছে, বোমাটির আকার অনেকটা বড় গ্যাস সিলিন্ডারের মতো এবং দৈর্ঘ্যেও বেশ বড়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চমক ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে রয়েছে ভয় ও শঙ্কা, অন্যদিকে রয়েছে ইতিহাস জানার আগ্রহ—এটি সত্যিই কি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার বোমা? কীভাবে এটি এখানে এলো?

অনেক স্থানীয় বাসিন্দা এখন আতঙ্কিত। তারা বলছেন, বছরের পর বছর এই বোমার পাশে কাজ করলেও কখনো ভাবেননি এটি এতটা বিপজ্জনক হতে পারে। যদি এর ভেতরে বিস্ফোরক থেকে থাকে, তবে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারত বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যশোরে জাতীয় পার্টির নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত 

শার্শার বসতপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বেকারি খাদ্য

ইনুর মামলার রায় কাল, সরাসরি দেখবে দেশবাসী

ডুমুরিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

নেইমারকে ছাড়াই জাপানের বিপক্ষে নামছে ব্রাজিল

মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের শোক

অর্থ বিল পাস, যেসব পরিবর্তন এলো 

এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হলেন আহসান হাবিব

যশোরে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

যশোরে পাট পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি বিষয়ক মতবিনিময় সভা

যশোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক সেমিনার  

যশোরে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত

মহেশপুরে গাজীরননেছা বালিকা বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

মোরেলগঞ্জে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে নারিকেল চারা ও কৃষি প্রণোদনা বিতরণ

শৈলকুপায় পাঁচ দিনের ব্যবধানে দুই কিশোরের মৃত্যু

সুনামগঞ্জ পৌরসভায় ৫৪ কোটি ১৫ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

মণিরামপুরে সেতুর কাজ থমকে, দুর্ভোগে ২০ গ্রাম

আগামী ইউপি নির্বাচন ঘিরে মণিরামপুরে বিএনপির ঐক্যের শপথ

নড়াইলে গণতন্ত্র অলিম্পিয়াড, অংশ নিলেন ২৭৫ শিক্ষার্থী

যশোর নওয়াপাড়ায় কৃষক দলের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

X