
বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, সাত জেলার বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ওই সব এলাকায় এ পর্যন্ত ত্রাণ হিসেবে নগদ ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা, ৯ হাজার ৫০ টন চাল, ৪ হাজার ২০০ বান্ডিল ঢেউটিন এবং গৃহ নির্মাণে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শনিবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ, এই সাত জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব জেলার ৫৬টি উপজেলা এবং ৩৭৪টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌরসভা পানিবন্দি বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্যে বলা হয়েছে, অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসে দেশের সাত জেলায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৫৯ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন আরও ৪০ জন। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজারে, সেখানে স্থানীয় ও রোহিঙ্গাসহ ৩২ জন মারা গেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে সরকার। নিহত ৫৯ জনের মধ্যে কক্সবাজারে ৩২, চট্টগ্রামে ১৬, বান্দরবানে সাত, রাঙ্গামাটিতে তিন এবং মৌলভীবাজারে একজন রয়েছেন। আহতদের মধ্যে কক্সবাজারে ২৫, চট্টগ্রামে ১২, বান্দরবানে দুই এবং খাগড়াছড়িতে একজন রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সাত জেলায় মোট ৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে বর্তমানে ২৯৮ জন আশ্রয় নিয়েছেন। ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সহায়তা পেয়েছে চট্টগ্রাম। জেলাটিতে নগদ ৭৫ লাখ টাকা, ১ হাজার ২০০ টন চাল, এক হাজার বান্ডিল ঢেউটিন, গৃহ নির্মাণে ৩০ লাখ টাকা, ৪৬ হাজার ১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, গোখাদ্য, শিশুখাদ্য এবং প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে অতিরিক্ত ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারে ৪০ লাখ টাকা নগদ, ৪৫০ টন চাল, এক হাজার বান্ডিল ঢেউটিন, ৩০ লাখ টাকা গৃহ নির্মাণ সহায়তা, গোখাদ্য, শিশুখাদ্য এবং প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খাগড়াছড়িতে ২৫ লাখ টাকা নগদ, ৪০০ টন চাল, গোখাদ্য, শিশুখাদ্য, ৫৪৬ বান্ডিল টিন, গৃহ নির্মাণে ১৫ লাখ টাকা এবং প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রাঙামাটিতে ৩০ লাখ টাকা নগদ, ৫০০ টন চাল, ৫০০ বান্ডিল ঢেউটিন ও গৃহ নির্মাণে ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এছাড়াও বান্দরবানে ও মৌলভীবাজারে অনুরূপ ত্রাণ দেয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হিসেব অনুযায়ী ত্রাণ হিসেবে যা দিয়েছে তা যথেষ্ট। আমরা মনে করি, এখন দরকার বন্যার্তদেরকে পূণর্বাসনে উদ্যোগী হওয়া।
মন্তব্য করুন