
জাতিসংঘের সন্ত্রাসবাদবিরোধী গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলোর বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও আর্জেন্টিনা। জাতিসংঘের প্রস্তাবে এই তিন দেশের এমন বিরোধিতার তীব্র সমালোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (ঢ) দেওয়া এক পোস্টে বাঘায়ি গত এক বছরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত সন্ত্রাসবাদ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক অপরাধবিষয়ক কয়েকটি প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এসব প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও আর্জেন্টিনা। তিনি লিখেছেন, কী কী এবং কারা কারা-তার একটি ইঙ্গিত: বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদবিরোধী কৌশল সংক্রান্ত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রস্তাব ২০২৬ সালের ১ জুলাই বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় গৃহীত হয়। এর বিপক্ষে ভোট দেয় মাত্র ৩টি দেশ: ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও আর্জেন্টিনা। বাঘাই আরও কয়েকটি প্রস্তাবের উদাহরণ তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে আটলান্টিক দাস বাণিজ্যকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাব ২০২৬ সালের ২৫ মার্চ গৃহীত হয়। এর বিপক্ষে ভোট দেয় মাত্র ৩টি দেশ: ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও আর্জেন্টিনা। এরপর ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর গৃহীত হয় মানবপাচার প্রতিরোধসংক্রান্ত প্রস্তাব। এর বিপক্ষেও ভোট দেয় এই তিন দেশ। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ ও মানবাধিকার বিষয়ক প্রস্তাবও ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর গৃহীত হয়। এর বিরুদ্ধেও ভোট দেয় ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও আর্জেন্টিনা। প্রসঙ্গত, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশকিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এর প্রতিবাদে ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান। এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়া ১৩ এপ্রিল হরমুজে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়। এরপর কয়েক দফা যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ান ট্রাম্প। সর্বশেষ, ইরানের ১৪ দফা শর্তের ভিত্তিতে গত ১৮ জুন একটি সমঝোতায় পৌঁছায় দুই পক্ষ। কিন্তু যুদ্ধ থামেনি। তাদের কথিত যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি স্থগিত হয়ে গেছে। কারণ, আমেরিকা-ইসরায়েল জানে, তারা মাত্র তিনটি দেশ মানবতাবিরোধী চুক্তি কিংবা সন্ত্রাসবাদ বিরোধী প্রস্তাব ভেটোর পরাক্রম থাবায় স্তব্ধ করে দিয়ে এসেছে।
মন্তব্য করুন