
বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে সতীর্থ ও দলের সদস্যদের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তিনি বলেছেন, আর্জেন্টিনা দল এখন একটি পরিবারের মতো। ফাইনালের ফলাফল যা-ই হোক, এই দল এমন এক ইতিহাস তৈরি করেছে, যা কখনো মুছে ফেলা সম্ভব নয়।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে পরাজিত করে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে শুরুতে পিছিয়ে পড়েছিল আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মেসি। দলের দুটি গোলে সহায়তা করে জয়ে বড় অবদান রাখেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
ফাইনালের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের সঙ্গে একটি দলীয় ছবি প্রকাশ করেন মেসি। ছবির সঙ্গে দেওয়া বার্তায় তিনি পুরো যাত্রাপথের কথা স্মরণ করে আবেগঘন বক্তব্য দেন।
সেখানে তিনি লেখেন, ‘এই দীর্ঘ পথচলায় সবচেয়ে সুন্দর বিষয় শুধু শিরোপা নয়, বরং পুরো যাত্রাটাই।’
তিনি সতীর্থ, কোচিং স্টাফ এবং পর্দার আড়ালে কাজ করা সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মেসি আরও লেখেন, ‘আগামীকাল যা-ই ঘটুক না কেন, এই দল এমন একটি ইতিহাস লিখেছে, যা আমরা কখনো ভুলব না এবং কেউ মুছে ফেলতে পারবে না।’
সবশেষে তিনি লেখেন, ‘চলো আর্জেন্টিনা।’
রোববারের ফাইনাল মেসির সামনে আরেকটি বড় সুযোগও এনে দিয়েছে। এই ম্যাচে গোল করতে পারলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড পুনরুদ্ধার করতে পারবেন তিনি।
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি গোল করে ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ২২-এ উন্নীত করে মেসিকে ছাড়িয়ে গেছেন। চলতি বিশ্বকাপে ১০ গোল নিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকাতেও শীর্ষে রয়েছেন তিনি।
চলতি বিশ্বকাপই মেসির শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে বলে ব্যাপক আলোচনা থাকলেও তিনি এখনই সে বিষয়ে কিছু বলতে চান না।
মেসি বলেন, ‘এক বছর ধরে আমি নিজেকে প্রস্তুত করেছি এবং অনুশীলন করেছি। আমি জানতাম, সেরা অবস্থায় থাকতে আমাকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি শুধু খেলাটা উপভোগ করতে চাই। এটি আমার শেষ বিশ্বকাপ কি না, তা নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না।’
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জয়ের অনুভূতি নিয়ে মেসি বলেন, এই জয় আর্জেন্টিনার মানুষের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
তিনি বলেন, ‘আমরা বিশেষ এক অনুভূতির মধ্য দিয়ে গিয়েছি। জাতীয় সংগীত বাজানোর মুহূর্ত থেকেই সেটি উপলব্ধি করেছি।’
মেসি বলেন, ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে হারিয়ে আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার ঘটনা আর্জেন্টিনার সমর্থকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই জয় তারা অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বেশি চেয়েছিল।
এখন টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে ফাইনালের জন্য প্রস্তুত আর্জেন্টিনা। আর সেই মহারণে মেসির নেতৃত্বে স্পেনকে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন দেখছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
মন্তব্য করুন