
প্রথমার্ধে চার গোল হজমের ধাক্কা সামলে বিরতি থেকেই ফিরেই আক্রমণের ধার বাড়াল ফ্রান্স। আর সেই সুযোগে জোড়া গোল করে ফুটবল ইতিহাসের নতুন পাতায় নাম লেখালেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। লিওনেল মেসিকে টপকে এখন বিশ্বকাপের ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ গোলের মালিক এই ফরোয়ার্ড।
শনিবার মায়ামিতে বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল ফ্রান্স। ম্যাচের প্রথমার্ধেই ৪-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে ফরাসিরা, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমার্ধে তাদের সবচেয়ে বেশি গোল হজমের রেকর্ড। তবে দলের এমন বিপর্যয়ের দিনেও রেকর্ড বই ওলটপালট করেছেন ২৭ বছর বয়সী রিয়াল মাদ্রিদ তারকা এমবাপে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে কিছু সুযোগ হাতছাড়া করলেও বিরতির পর ৪৮তম মিনিটে প্রথম জালের দেখা পান এমবাপে। মাইকেল ওলিসের পাস ডি-বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিখুঁত শটে গোল করেন তিনি। এই গোলের মাধ্যমেই লিওনেল মেসির ২১ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেন ফরাসি অধিনায়ক।
এরপর ম্যাচের ৬৬তম মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ডান দিক থেকে আসা সতীর্থের পাস ডামি করে ছেড়ে দেন ওলিসে। বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এমবাপে আবার তা ওলিসেকেই বাড়ান। ফিরতি পাস পেয়ে ডি-বক্সে ঢুকে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে দারুণ এক প্লেসিং শটে বল জালে জড়ান এমবাপে। আর এই ২২ নম্বর গোলের মাধ্যমে মেসিকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে বসেন তিনি।
বিশ্বকাপের মঞ্চে এমবাপের এই ২২টি গোল এসেছে মাত্র ২২ ম্যাচ খেলে। অন্যদিকে, ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি ৩৩ ম্যাচ খেলে করেছিলেন ২১টি গোল।
চলতি বিশ্বকাপে এমবাপের গোলসংখ্যা এখন ১০টি, যা এই আসরে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। সমান ৮ গোল নিয়ে তালিকার দুই নম্বরে আছেন ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি, যার সামনে আগামী রবিবার স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে গোলসংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
একই সাথে ইতিহাসের মাত্র চতুর্থ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের একক কোনো আসরে গোলের দুই অঙ্ক (১০ বা তার বেশি) স্পর্শ করার কীর্তি গড়লেন এমবাপে। এই তালিকায় তিনি পাশে বসেছেন ১৯৭০ বিশ্বকাপে ১০ গোল করা জার্মান কিংবদন্তি জার্ড মুলারের।
বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটি এখনো ফ্রান্সেরই জুস্ত ফঁতেনের দখলে, ১৯৫৮ আসরে তিনি করেছিলেন ১৩ গোল। আর ১৯৫৪ সালে ১১ গোল করে এই তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছেন হাঙ্গেরির সান্দর কোচিশ।
মন্তব্য করুন