
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটির একটি সামরিক রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজানে মার্কিন সেনাদের একটি অবস্থান ও লজিস্টিকস বা রসদ সরবরাহকেন্দ্রে হামলা চালানোর দাবিও করেছে বাহিনীটি।
শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ‘অপারেশন নাসর-২’-এর অংশ হিসেবে তাদের স্থল বাহিনী ক্যাম্প আরিফজানে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি লজিস্টিকস কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এতে কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়। তবে আইআরজিসির এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বাহিনীটির দাবি, ড্রোন হামলার মাধ্যমে কুয়েতের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটির একটি রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গার ও ড্রোন সংরক্ষণাগারেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়।
বিবৃতিতে আইআরজিসি আরও জানায়, তাদের স্থল বাহিনীর পাল্টা অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগও আনা হয়েছে। আইআরজির দাবি, হাসপাতাল, সেতু, রেললাইন, বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, টেলিযোগাযোগ কেন্দ্র ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা করছে।
অন্য এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে তাদের নৌবাহিনী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করেছে। এতে কুয়েতের আল আহমাদি বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহরের জ্বালানি সরবরাহ ঘাঁটি, বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটির একটি মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং বাতেলকো নামের একটি গোয়েন্দা তথ্যকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এছাড়া কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংকেত ও যোগাযোগকেন্দ্র ধ্বংসের কথাও জানায় তারা।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, পুরো অভিযান চলাকালে হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নৌবাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় ছিল। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে আরও বিস্তৃত পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।
এদিকে, ইরানের সেনাবাহিনীও দাবি করেছে, তারা ভারত মহাসাগরে একটি মার্কিন জাহাজ লক্ষ্য করে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৭ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালিয়েছে। তেহরানের দাবি, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের পরও এসব হামলা অব্যাহত রয়েছে। তবে ইরানের এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন