
অভিনয়ে আগের মতো নিয়মিত না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয় জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। সম্প্রতি তার একটি ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। প্রেমে পড়ার ইঙ্গিতপূর্ণ সেই পোস্ট নিয়ে নানা জল্পনার মধ্যেই এবার একটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
ভিডিওবার্তায় প্রভা সাইবার বুলিং, অনলাইন ট্রলিং এবং ভিকটিম ব্লেমিং সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সরব হন। একই সঙ্গে তিনি সমাজে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানান।
ভিডিওবার্তার শুরুতে প্রভা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চুপ থাকলেও এখন আর নীরব থাকা সম্ভব নয়। নিজের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই তিনি কথা বলছেন বলে জানান।
মানুষ কেন সামাজিক মাধ্যমে অন্যকে অপমান বা ট্রল করে, সে বিষয়ে মনোবিজ্ঞানী ও মানব আচরণবিষয়ক গবেষণার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যারা অন্যকে আক্রমণাত্মকভাবে বিচার করেন, কটূক্তি করেন বা মৌখিকভাবে হয়রানি করেন, তাদের অনেকেই নিজেদের জীবন, অবস্থান, যোগ্যতা কিংবা ব্যক্তিগত সাফল্য নিয়ে অসন্তুষ্ট থাকেন।
তার ভাষায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিল্পী ও সেলিব্রিটিদের লক্ষ্য করে যারা নিয়মিত বুলিং করেন, তাদের মধ্যে প্রায়ই নিরাপত্তাহীনতা ও আত্মতৃপ্তির অভাব কাজ করে।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রভা জানান, গত প্রায় ১৬ বছর ধরে তিনি ধারাবাহিকভাবে অনলাইন বুলিংয়ের শিকার হয়ে আসছেন।
তিনি বলেন, মানুষ তাকে নিয়ে হাসাহাসি বা সমালোচনা করে এক ধরনের বিকৃত আনন্দ পায়। তবে একই সময়ে যারা অপরাধ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে যথেষ্ট প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না।
প্রভার মতে, তাকে নিয়ে যে পরিমাণ আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে, তার অর্ধেকও যদি প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে হতো, তাহলে সমাজে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।
সমাজে ভিকটিম ব্লেমিংয়ের প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করে অভিনেত্রী বলেন, কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা প্রাইভেসি তার সম্মতি ছাড়া প্রকাশ করা একটি গুরুতর অপরাধ। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই অপরাধীকে আড়াল করে ভুক্তভোগীকেই বারবার সামাজিকভাবে হেনস্তা করা হয়।
তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, যেমন ধর্ষণ বা অ্যাসিড হামলার অপরাধীদের বিরুদ্ধে সমাজে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়, তেমনি ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস বা গোপনীয়তা লঙ্ঘনের মতো অপরাধকেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।
অনলাইন ট্রলকারীদের উদ্দেশে প্রভা বলেন, মানুষের সৌন্দর্য, আয় বা যোগ্যতা নিয়ে তার কোনো আগ্রহ নেই। তবে যারা বছরের পর বছর ধরে তাকে বুলিং করেছেন, তারা যদি একইভাবে অপরাধীদের সমালোচনা করতেন, তাহলে সমাজে বিকৃত মানসিকতার মানুষ তৈরি হওয়ার সুযোগ কমে যেত।
তার দাবি, আমরা অপরাধকে নয়, বরং ভুক্তভোগীকেই বেশি আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসি। ফলে প্রকৃত অপরাধীরা আড়ালে থেকে যায় এবং একই ধরনের অপরাধ বারবার ঘটতে থাকে।
ভিডিওবার্তার শেষ অংশে প্রভা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সমাজে চাইল্ডহুড ট্রমা কমানো, মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সঠিক প্যারেন্টিং নিশ্চিত করা জরুরি।
একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, যখন কোনো অপরাধীকে আড়াল করে ভুক্তভোগীকেই প্রতিনিয়ত মানসিক নির্যাতনের মুখে ফেলা হয়, তখন পুরো সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই ভিকটিমকে দোষারোপ না করে প্রকৃত অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী।
মন্তব্য করুন