
সুইডেনের বিপক্ষে পুরো ম্যাচ জুড়ে যেন শুধুই ‘ডাচ জয়জয়কার’। প্রথমার্ধে ব্রায়ান ব্রবি এবং দ্বিতীয়ার্ধে কোডি গাকপোর চোখধাঁধানো জোড়া গোলে সুইডেনকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে নেদারল্যান্ডস। তবে এই বড় জয়ের দিনে ফুটবল বিশ্ব সাক্ষী হলো এক অনন্য ও ঐতিহাসিক মাইলফলকের। লিভারপুল তারকা কোডি গাকপোর পা থেকে আসা দলের চার নম্বর গোলটি পূর্ণ করেছে চলতি বিশ্বকাপের ১০০তম গোল। আর মাত্র ৩৩তম ম্যাচেই গোলের এই সেঞ্চুরি ছুঁয়ে ১৯৫৮ সালের পর বিশ্বমঞ্চে সবচেয়ে দ্রুততম ১০০ গোলের নতুন রেকর্ড গড়ল ফুটবল বিশ্ব।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত চিত্র: নেদারল্যান্ডসের গোলদাতা: ব্রায়ান ব্রবি (প্রথমার্ধে জোড়া গোল), কোডি গাকপো (দ্বিতীয়ার্ধে জোড়া গোল)। ঐতিহাসিক মাইলফলক: ম্যাচের ৫৪ মিনিটে কোডি গাকপোর গোলটি চলতি বিশ্বকাপের ১০০তম গোল। রেকর্ড: ১৯৫৮ সালের পর এই প্রথম মাত্র ৩৩ ম্যাচে ১০০ গোলের দেখা মিলল বিশ্বকাপে।
প্রথমার্ধে ব্রায়ান ব্রবির ‘শো’
ম্যাচের শুরু থেকেই সুইডেনের রক্ষণভাগকে কোণঠাসা করে রাখে নেদারল্যান্ডস। প্রথমার্ধের পুরোটা আলো নিজের দিকে কেড়ে নেন ডাচ ফরোয়ার্ড ব্রায়ান ব্রবি। সুইডিশ ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে প্রথমার্ধেই দুর্দান্ত দুটি গোল করে দলকে চালকের আসনে বসিয়ে দেন তিনি। ব্রবির এই জোড়া গোলে প্রথমার্ধেই বড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ডাচরা।
বিরতির পর গাকপো-ম্যাজিক ও ঐতিহাসিক ১০০তম গোল
বিরতি থেকে ফিরে সুইডেন যখন ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করছিল, ঠিক তখনই শুরু হয় কোডি গাকপো-ম্যাজিক। ম্যাচের ৫৪ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে লিভারপুলের এই তারকা উইঙ্গার এক দূরপাল্লার চোখধাঁধানো শটে বল জালে জড়ান। এটি ছিল ম্যাচে গাকপোর দ্বিতীয় এবং দলের চার নম্বর গোল।
গাকপোর এই জাদুকরী গোলটি হওয়ার সাথে সাথেই ইতিহাসের পাতায় নাম লেখায় এই ম্যাচ। এটি ছিল চলতি বিশ্বকাপের ১০০তম গোল। এবারের বিশ্বকাপে দলগুলোর আক্রমণাত্মক ফুটবল যে কতটা বিধ্বংসী, তা প্রমাণ করে মাত্র ৩৩তম ম্যাচেই ১০০ গোলের দেখা মিলল। এর আগে ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে এত দ্রুত ১০০টি গোল হয়েছিল। দীর্ঘ ৬৮ বছর পর আবার সেই রেকর্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটল।
অপ্রতিরোধ্য নেদারল্যান্ডস
গাকপো এবং ব্রবির জোড়া আঘাতের পর সুইডেন আর ম্যাচটিতে দাঁড়াতেই পারেনি। ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচ পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় ডাচরা। এই বিধ্বংসী জয়ের পর গ্রুপ টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল নেদারল্যান্ডস। সেই সাথে ট্রফি জয়ের দৌড়ে বাকি পরাশক্তিদেরও বড় এক হুঙ্কার দিয়ে রাখল ডাচ বাহিনী।
মন্তব্য করুন