
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার হোগলাপাশা ইউনিয়নের ১৪৬নং কে কে বৌলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত তিন বছর ধরে ছাপড়া ঘরে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
সরেজমিনে শনিবার জানা যায়, কিসমত বৌলপুর গ্রামের এ বিদ্যালয়টি ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে কোনো নতুন উন্নয়ন হয়নি। পুরোনো ভবনটি প্রায় তিন বছর আগে নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপসারণের পর থেকে নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে অস্থায়ীভাবে টিনশেড ও কাঠের তৈরি দুই কক্ষের ছাপড়া ঘরে পাঠদান চালানো হচ্ছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ক্ষুদ্র মেরামত বরাদ্দে প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে এ অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করা হয়।
বর্তমানে বিদ্যালয়ে কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। শিক্ষকদের বসার জন্য পৃথক অফিস কক্ষও নেই। প্রচণ্ড গরম ও বৃষ্টির সময় শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছে। বৃষ্টির সময় শ্রেণিকক্ষে পানি প্রবেশ করে বই-খাতা ভিজে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে। এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
বিদ্যালয়টিতে ছয়টি শিক্ষকের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন চারজন। সহকারী শিক্ষক পদে একজন দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে একজন শিক্ষক বিটিপিটি প্রশিক্ষণে থাকায় কার্যত চারজন শিক্ষক দিয়েই ৬৬ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে।
শিক্ষার্থী রাবেয়া আক্তার, জান্নাতুন নাহার, সাদিয়া আক্তার ও অর্ক রায় বলেন, “কতদিন আমরা এভাবে কষ্ট করে ক্লাস করব? আমাদের একটি নতুন ভবন দরকার।”
শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে সহকারী শিক্ষক পলি সোমাদ্দার, জয়দেব কুমার মল্লিক ও মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীরা প্রতিদিনই কষ্ট করে ক্লাসে আসছে। রোদ-বৃষ্টিতে তাদের ভোগান্তির শেষ নেই। অভিভাবকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তারা দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান।
স্থানীয় ৭নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান টুকু ও অভিভাবক আঃ মান্নান শেখসহ অনেকে বলেন, মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ে নতুন ভবন জরুরি। দীর্ঘ তিন বছর ভবন অপসারণের পরও নতুন ভবন না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে রয়েছে। তারা দ্রুত ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অর্চনা তালুকদার বলেন, পুরোনো ভবন অপসারণের পর থেকেই নতুন ভবনের জন্য একাধিকবার উপজেলা শিক্ষা অফিস ও এলজিইডি দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। তালিকায় নাম থাকলেও এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।
উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার সতীষ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। নতুন ভবনের জন্য বিদ্যালয়টির নাম প্রস্তাবনায় রয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে এ বিদ্যালয়টি তালিকাভুক্ত থাকবে বলে তিনি জানান।
মন্তব্য করুন
১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম
১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম
১৯ জুন ২০২৬, ১০:০৪ পিএম
১৯ জুন ২০২৬, ১০:১৫ পিএম