
এক সময় গ্রাম-বাংলার মেঠোপথ ধরে হাঁটলে বাতাসে ভেসে আসত এক চেনা টক-মিষ্টি সুবাস। গাছের ডালে ডালে ঝুলতে দেখা যেত হলদেটে, এবড়ো-থেবড়ো এক অদ্ভুত আকৃতির ফল। গ্রামীণ জনপদের অতি পরিচিত ও শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত সেই ফলটির নাম ‘ডেউয়াা’।
স্থান বা অঞ্চলভেদে এটি ঢেউয়া, মাদার, ডেউফল, বনকাঁঠাল, ডয়ো কিংবা ডহুয়া নামেও পরিচিত। অযত্ন-অবহেলায় প্রাকৃতিকভাবেই এই গাছটি চারদিকে জন্মাত। কিন্তু কালের বিবর্তনে, জলবায়ুর পরিবর্তন আর নির্বিচারে বন উজাড়ের ফলে পুষ্টিগুণে ঠাসা এই দেশি ফলটি আজ বিপন্ন ও বিলুপ্তির পথে।
গ্রামের বন-জঙ্গল ধ্বংস হওয়ার কারণে এখন আর আগের মতো চোখে পড়ে না এই বন কাঁঠাল বা ডেউয়া ফল। শহরাঞ্চলে তো এটি এখন রীতিমতো এক ‘দুর্লভ’ ফল। তবে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ জনপদে এখনো টিকে আছে কিছু ডেউয়া গাছ। ফলটির মৌসুম চলায় স্থানীয় হাটবাজারগুলোতে গ্রামীণ এই ফলের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে।
উপজেলার বেথুলিয়া গ্রামের নূর মহম্মদ নামের এক মৌসুমি ফল বিক্রেতা জানান, এক ভিন্ন বাস্তবতার কথা। তিনি উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত গ্রাম ঘুরে গৃহস্থদের গাছ থেকে এককালীন (থোক) দামে এই ডেউয়া ফল কিনে আনেন। পরে স্থানীয় বাজারগুলোতে ভ্যানে করে ঘুরে ঘুরে তা বিক্রি করেন।
নূর মহম্মদ বলেন, ‘ফলটি এখন আর আগের মতো পাওয়া যায় না। তবে বাজারে এর বেশ চাহিদা রয়েছে। ক্রেতারা স্মৃতি রোমন্থন করে বেশ আগ্রহ নিয়েই এটি কিনছেন। আকার ও মানভেদে প্রতিটি ডেউয়া ফল ১০ টাকা থেকে শুরু করে ৪০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি করছি।”
বহির্ভাগের অসমান ও এবড়োখেবড়ো আবরণের এই ফলটি কাঁচা অবস্থায় সবুজ থাকলেও পাকলে উজ্জ্বল হলুদ বর্ণ ধারণ করে। এর ভেতরের শাঁসটি চমৎকার লালচে-হলুদ রঙের এবং ভেতরে কাঁঠালের মতোই ছোট ছোট কোষ বা কোয়া থাকে।
সাধারণত ফ্রেব্রুয়ারি মাসে এই গাছে ফুল আসে এবং জুন মাসে ফল পাকতে শুরু করে। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে, কোনো রকম বালাইনাশক বা রাসায়নিক ছাড়াই এই ফলটি বড় হয়।
মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী মো. আবু আহসান বলেন, ‘ডেউয়া ফল ভিটামিন ‘বি’, ‘সি’, ‘ক্যালসিয়াম’, ‘পটাশিয়াম’, ‘ফাইবার’, ‘লৌহ’ এবং ‘জিংক’-এর মতো শরীরের জন্য অপরিহার্য উপাদানে ভরপুর। একটি মাঝারি আকৃতির ডেউয়া ফল থেকে প্রায় ৭৩ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে দারুণ কাজ করে।’
মন্তব্য করুন
১৯ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
১৯ জুন ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম
১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম
১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম
১৯ জুন ২০২৬, ১০:০৪ পিএম