
জ্যৈষ্ঠের তীব্র খরতাপ ও ভ্যাপসা গরমে পুড়ছে গোটা জনপদ। সকাল গড়াতেই তীব্র রোদ আর গুমোট গরমে ওষ্ঠাগত হয়ে উঠছে জনজীবন। এমন নাভিশ্বাস ওঠা আবহাওয়ায় একটুখানি স্বস্তি আর প্রশান্তির খোঁজে মাগুরা জেলার চার উপজেলার সাধারণ মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন গ্রামীণ প্রকৃতির আদি ও অকৃত্রিম পানীয় তালের শাঁসের ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে। গ্রীষ্মের এই মধু মাসে আম, জাম, লিচু কিংবা কাঁঠালের পাশাপাশি মাগুরার মহম্মদপুর, শালিখা, শ্রীপুর ও মাগুরা সদর উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে এখন কদর বেড়েছে তাল শাঁসের। তালের শাঁস কেবল তৃষ্ণাই মেটায় না, এটি ক্লান্তি দূর করে শরীরকে ভেতর থেকে শীতল রাখতে অনন্য ভূমিকা পালন করে।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, তীব্র গরমকে কেন্দ্র করে এক সময়ের গ্রামীণ এই ঐতিহ্য এখন বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে। মাগুরার এই তাল স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চলে যাচ্ছে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায়। মহম্মদপুর, শালিখা, শ্রীপুর ও মাগুরা সদর উপজেলার বিভিন্নহাট-বাজারে গড়ে উঠেছে তাল শাঁস বিক্রির অস্থায়ী দোকান। আকার ভেদে প্রতিটি তালের শাঁস বিক্রি হচ্ছে পাচ থেকে ১০ টাকা দরে। তীব্র রোদে ক্লান্ত পথচারী, দিনমজুর, ভ্যান-রিকশাচালক থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ তাল শাঁস কিনছেন।
ক্রেতারা জানান, প্রত্যেকটি তালে দুই থেকে তিনটি চোখ বা বিচি থাকে, যার ভেতরে থাকে সুস্বাদু শাঁস ও মিষ্টি রস। সাধারণত ছোট ও মাঝারি সাইজের কচি তালের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি, কারণ এগুলো নরম ও মুখে দিলেই প্রাণ জুড়িয়ে যায়। তাল বড় হয়ে গেলে শাঁস শক্ত হয়ে যায় এবং খাওয়ার উপযোগিতা হারায়।
এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. কাজী মো. আবু আহসান বলেন, “তীব্র তাপমাত্রার কারণে এই সময়ে মানুষের ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় এবং চুল পড়ার সমস্যা বাড়ে। এক্ষেত্রে কচি তালের শাঁস খুবই উপকারী ভূমিকা রাখে। এটি শরীর ও পেট ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি শরীরের হারিয়ে যাওয়া প্রয়োজনীয় পানি ও খনিজ উপাদান পূরণ করে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়োডিন, মিনারেলস, পটাশিয়াাম, জিঙ্ক, ফসফরাস ও ভিটামিন, যা বিভিন্ন রোগের পথ্য হিসেবে কাজ করে।”
মন্তব্য করুন