
বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে যেন ফুটবল শিল্পের প্রদর্শনী বসল! মিকেল ওয়ায়ারজাবালের পেনাল্টি গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ফ্রান্সকে দ্বিতীয় ধাক্কা দিল স্পেন। স্প্যানিশদের চিরাচরিত টিকিটাকা দর্শনের এক চোখধাঁধানো দলীয় আক্রমণ থেকে দুর্দান্ত গোল করে ব্যবধান ২-০ করলেন ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরো। ড্যানি ওলমোর জাদুকরী পাস ও পোরোর ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংয়ে ফ্রান্সের রক্ষণভাগ এখন সম্পূর্ণ দিশেহারা। এই গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের পকেটে পুরে নিয়ে ফাইনালে ওঠার পথে বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে গেল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
ওলমোর জাদুকরী অ্যাসিস্ট ও পোরোর ফিনিশিং: টিকিটাকার মহাকাব্য প্রথমার্ধের পেনাল্টি গোলের ধাক্কা সামলে ফ্রান্স যখন ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করছিল, ঠিক তখনই স্পেনের মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের দুর্দান্ত রসায়নে আসে দ্বিতীয় গোলটি। পোরোর দৌড় ও ওলমোর রিভার্স পাস: মাঝমাঠ থেকে আক্রমণটি শুরু করেন পেদ্রো পোরো নিজেই। তিনি বক্সে থাকা ড্যানি ওলমোর উদ্দেশ্যে একটি জোরালো পাস বাড়িয়ে দিয়েই চিতার ক্ষিপ্রতায় ফ্রান্সের রক্ষণব্যূহ ভেদ করে বক্সের দিকে দৌড়াতে থাকেন। ফরাসি ডিফেন্ডাররা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওলমো এক অসামান্য ও জাদুকরী 'রিভার্স পাস' খেলেন পোরোর রানিং ট্র্যাকে।
অভিজ্ঞ স্ট্রাইকারের মতো ফিনিশিং: ওলমোর সেই ডিফেন্স-চেরা পাসটি বক্সে নিয়ন্ত্রণে নেন পোরো। পজিশনগতভাবে রাইট-ব্যাক হলেও ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মাইনিয়াঁকে সামনে পেয়ে পোরো অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় একজন অভিজ্ঞ সেন্টার-ফরোয়ার্ডের মতো নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন। ২-০ স্কোরলাইন হতেই গ্যালারিতে স্প্যানিশ সমর্থকরা শিরোপা জয়ের উল্লাসে মেতে ওঠে।
খেলোয়াড়দের কৃতিত্ব ও ব্যর্থতার বিশ্লেষণ
পেদ্রো পোরো ও ড্যানি ওলমোর অনন্য কৃতিত্ব: ডিফেন্ডার হয়েও পোরোর এই ওভারল্যাপিং রান এবং বক্সের ভেতর নিখুঁত ফিনিশিং সেন্স ছিল অসাধারণ। তবে এই গোলের মূল কারিগর ড্যানি ওলমো, যার সেই রিভার্স পাসটি ফরাসি রক্ষণভাগের সম্পূর্ণ পরিকল্পনা এক পলকে ধ্বংস করে দিয়েছে।
ফ্রান্সের ডিফেন্স ও মাঝমাঠের চরম ব্যর্থতা: ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পেছনে ফরাসি ডিফেন্ডারদের পজিশনিং ও ট্র্যাক ব্যাক করার ব্যর্থতা স্পষ্ট। পোরো যখন মাঝমাঠ থেকে পাস দিয়ে বক্সে ঢুকে যাচ্ছিলেন, তাকে মার্ক করার মতো কোনো ফরাসি মিডফিল্ডার বা ডিফেন্ডার প্রস্তুত ছিলেন না। নকআউটের সেমিফাইনালের মতো ম্যাচে এমন ফাঁকা জায়গা দেওয়া দিদিয়ের দেশমের দলের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে এনেছে।
কৌশলগত দ্বৈরথ ও মাঠের চিত্র
২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর স্পেন এখন ম্যাচের গতি সম্পূর্ণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে। ফরাসিদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করে স্প্যানিশরা এখন নিখুঁত পাসিং ফুটবলে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্যদিকে, কিলিয়ান এমবাপ্পেদের টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে এখন অলৌকিক কিছুর জন্ম দিতে হবে। ডালাসের মাঠ এখন ইউরোপের দুই পরাশক্তির এক ঐতিহাসিক দ্বৈরথের সাক্ষী হয়ে রইল।
মন্তব্য করুন