
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট আগামী শুক্রবার (১৭ জুলাই) ভেঙে দেওয়া হবে এবং এর পর আগামী ২৭ অক্টোবর দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর এটিই হবে ইসরায়েলের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনকে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের জনপ্রিয়তার বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের মুখে থাকা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে।
সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে নেতানিয়াহুর দল সর্বাধিক আসন অর্জন করলেও এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। পরে উগ্র ডানপন্থী দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন করে তিনি সরকার প্রতিষ্ঠা করেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই জোটকে ইসরায়েলের ইতিহাসের অন্যতম কট্টরপন্থী সরকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাদের নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকার সীমিত করার বিভিন্ন পদক্ষেপ।
বর্তমান নেসেটের আর মাত্র কয়েকটি অধিবেশন বাকি থাকায় আগামী শুক্রবার সংসদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়ার আগে নেতানিয়াহুর সরকার বেশ কয়েকটি বিতর্কিত আইন পাসের চেষ্টা করছে, যা নির্বাচনের আগে ভোটারদের সমর্থন অর্জনের কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে নির্বাচনের আগে পশ্চিমতীরে ফিলিস্তিনিদের জমি দখল করে নতুন নতুন অবৈধ বসতি স্থাপন বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে ওই অঞ্চলে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতাও বেড়ে যেতে পারে।
বিভিন্ন জরিপে দেখা যাচ্ছে, ৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহু এবার প্রধানমন্ত্রিত্ব হারাতে পারেন। তবে আগেও অনেকবার জরিপকে ভুল প্রমাণ করে তিনি ক্ষমতায় ফিরে এসেছেন।
মন্তব্য করুন