
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে। পাশাপাশি দেশটির শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, সাম্প্রতিক হামলায় তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কমান্ডারদের অনেকেই নিহত হয়েছেন। একই সাক্ষাৎকারে তিনি ইরানের বর্তমান শীর্ষ নেতা মোজতবা খামেনিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, মোজতবা খামেনি কার্যত ‘নব্বই শতাংশ শেষ’ হয়ে গেছেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে ভুলবশত ‘খোমেনি’ নামে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা খামেনিও গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় আলি খামেনি নিহত হওয়ার দাবি করা হয়। একই হামলায় মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও বিভিন্ন সূত্রে দাবি উঠে। এরপর থেকে তাকে আর জনসম্মুখে দেখা যায়নি, ফলে তার অবস্থান ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। তবে এসব দাবির স্বাধীন যাচাই এখনও সম্ভব হয়নি।
কয়েক মাসের যুদ্ধবিরতি ভেঙে গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে হামলা ও পাল্টা হামলা শুরু হওয়ার পরই ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন তীব্র মন্তব্য করলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যে দেশের কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছেন যে তার সরাসরি আদেশে ইরানি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে একাধিকবার জোরালো বিমান হামলা চালানোর মাধ্যমে পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি তিনি বৈশ্বিক নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে জানিয়েছেন যে এখন থেকে অন্যান্য দেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ফি বা মাশুল আদায় করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই বিমান হামলার সরাসরি প্রতিক্রিয়ায় ইরানও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে ট্যাংকারে চালানো ইরানি হামলায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক নাবিক নিহত এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন।
এই ঘটনার পর আমিরাতও তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় দুবাই ও আবুধাবির মতো বাণিজ্যিক অঞ্চলগুলো পুনরায় যুদ্ধের চপেটাঘাতে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতেই ওয়াশিংটন ও তেহরান এই মরণপণ লড়াইয়ে লিপ্ত রয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
মন্তব্য করুন