
যশোর শহরের পূর্ব বারান্দী ফুলতলা মাঠপাড়া এলাকায় ১৩ মামলার আসামি শরিফুল ইসলাম জিতু হত্যার ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। শুক্রবার রাতে নিহতের ভাই সাইফুল ইসলাম শক্তি বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে মামলাটি করেন। সাইফুল ইসলাম শক্তি পূর্ব বারান্দী মোল্লাপাড়ার বাসিন্দা ও সিরাজুল ইসলাম সিরার ছেলে। মামলায় আসামি করা হয়েছে পূর্ব বারান্দী ফুলতলা মাঠপাড়ার লালু মিয়ার ছেলে সুমন (৩২), সজিব (২২), স্ত্রী সুকোরন বেগম (৪২) এবং সুমনের স্ত্রী পিংকি (২২)-কে। এদিকে, শুক্রবার রাতে পূর্ব বারান্দী ফুলতলা মাঠপাড়ায় অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে । স্থানীয় সূত্রের দাবি, নিহত জিতুর সমর্থকরা এ হামলা ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িত।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২২ জুলাই রাত ১০টার দিকে সুমন মুঠোফোনে শরিফুল ইসলাম জিতুকে তাদের বাড়িতে ডেকে নেয়। জিতু তার পরিচিত মারুফ হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে আসামিদের বাড়ির উঠানে পৌঁছালে শুকোরন বেগম পেছন থেকে তাকে ঝাপটে ধরেন। এ সময় সুমনসহ অন্য আসামিরা ধারালো দা দিয়ে জিতুর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে মারুফ হোসেনও হামলার শিকার হন। মারুফের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত জিতুকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে নড়াইল শহরের কাছে পৌঁছালে তার মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের পরপরই পুলিশ প্রধান অভিযুক্ত সুমনকে আটক করে। পরে তাকে ৫৪ ধারায় আদালতে সোপর্দ করা হয়। কোতোয়ালি থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, সুমনকে এ মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন জানানো হবে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আটক সুমনের বিরুদ্ধেও হত্যাসহ ১১টি মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। একই সাথে অগ্নিসংযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
মন্তব্য করুন
২৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম
২৫ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম