
ন্যায্যমূল্যের অভাব, পাটকল বন্ধ এবং বাড়তি উৎপাদন খরচে একসময় যে ‘সোনালি আঁশ’ ঐতিহ্য ও গৌরব হারাতে বসেছিল, সেই পাটের সুদিন আবারও ফিরতে শুরু করেছে মাগুরার মহম্মদপুরে। বিশ্বজুড়ে পরিবেশবান্ধব পণ্যের কদর বৃদ্ধি, প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যবহার বাড়ানোয় সরকারি তৎপরতা এবং সর্বোপরি বাজারে মিলছে চড়া দাম; সব মিলিয়ে কৃষকদের মধ্যে নতুন করে জাগছে পাট চাষের উদ্দীপনা।
প্রতি বছরই সোনালী আঁশের সবুজ গাছে স্বপ্ন বোনেন কৃষক। পাট শুধু অর্থকরী ফসল নয়, এটি পরিবেশবান্ধব কৃষি অর্থনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চলতি মৌসুমে পাটের ভালো দাম পেয়ে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে মহম্মদপুর উপজেলার আটটি ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠের কৃষকরা ১০ হাজার ৭৯৫ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। তবে মৌসুমের শুরুতে পরিবেশের খামখেয়ালিপনায় তীব্র খরা ও ডিজেল সংকটে কিছুটা দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন চাষিরা। পরবর্তীতে সময়মতো পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত, জ্বালানি সংকট কেটে যাওয়া এবং কৃষকের যত্ন আর নিবিড় পরিচর্যায় মাঠে মাঠে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে।
তবে কৃষকরা এবার ভারতীয় ‘জেআরও ৫২৪’ এর পাশাপাশি দেশি ‘সবুজ সোনা’ জাতের পাট চাষ করেন। উপজেলার ১০০ জন কৃষককে স্থানীয় কৃষি বিভাগ প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ‘সবুজ সোনা’ জাতের বীজ ও সার প্রদান করে। ভারতীয় বীজের সাথে টেক্কা দিচ্ছে এই ‘সবুজ সোনা’ জাত।
বর্তমানে উপজেলার মাঠে মাঠে সবুজের সমারোহ। আগাম জাতের পাট কাটা, জাগ দেয়া, আশ ছাড়ানো, ধোয়ার কাজ শেষ করে শুকিয়ে অনেক কৃষক ইতোমধ্যে বাজারে বিক্রি শুরু করেছেন। বর্তমানে মানভেদে প্রতি মণ পাট চার হাজার থেকে চার হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এমন আকর্ষণীয় ও কাঙ্খিত দাম পেয়ে খুশি চাষিরা।
উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ সবুজ পাট বাতাসে দোল খাচ্ছে। কৃষকরা শ্রমিক নিয়োগ করে কোমর বেঁধে পুরোদমে পাট কাটতে শুরু করেছেন। কারণ পাট কেটে সেই জমি প্রস্তুত করে আমন ধান রোপণ করতে হবে। আগাম বপণ করা পাট আগেই কাটা হয়েছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় পাটের ভালো দাম পেয়ে এবার কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।
উপজেলার নাওভাঙ্গা গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “এবার ছয় বিঘা জমিতে পাট আবাদ করেছিলাম। ফলন যেমন ভালো হয়েছে, তেমনি বাজারে দামও মিলছে চমৎকার।”
তবে ভালো ফলন ও স্বস্তিদায়ক দামের পাশাপাশি কিছু প্রতিবন্ধকতার কথাও জানিয়েছেন কৃষকরা। উরুড়া গ্রামের চাষি আনোয়ার হোসেন জানান, ভরা মৌসুমে শ্রমিক সংকট এবং পর্যাপ্ত পানি না থাকায় অনেক দূর নিয়ে পাট জাগ দিতে হচ্ছে। এতে যাতায়াত ও প্রক্রিয়াজাতকরণের খরচ কিছুটা বেড়ে যাচ্ছে।
মহম্মদপুর উপজেলা কৃষি অফিসার পিযুষ রায় বলেন, “অনুকূল আবহাওয়া, কৃষি দপ্তরের মাঠপর্যায়ের দিকনির্দেশনা ও কৃষকদের নিবিড় পরিচর্যায় এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে বর্তমানে পাটের যে চমৎকার দাম রয়েছে, তাতে চাষিরা বিগত সময়ের চেয়ে বেশি লাভবান হবেন। যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে।”
মন্তব্য করুন
২৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম
২৫ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম