রবিবার
২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

কিয়ামতের দিন যাদের দিকে আল্লাহ তাকাবেন না

ইসলামী জাহান ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:০০ এএম
কিয়ামতের দিন যাদের দিকে আল্লাহ তাকাবেন না

কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহর রহমতের দৃষ্টি থেকে বঞ্চিত হবে এমন কিছু মানুষের কথা কোরআন ও হাদিসে সতর্কতার সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব মানুষ আল্লাহর অসন্তুষ্টির শিকার হবে এবং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তির সতর্কবার্তা। তাই প্রত্যেক মুমিনের উচিত এসব গুনাহ থেকে নিজেকে দূরে রাখা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা।

১. আল্লাহর সঙ্গে করা অঙ্গীকার ও শপথ তুচ্ছ বিনিময়ে বিক্রি করা ব্যক্তি পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, যারা আল্লাহর সঙ্গে করা অঙ্গীকার এবং নিজেদের শপথকে সামান্য মূল্যের বিনিময়ে বিক্রি করে, আখিরাতে তাদের কোনো অংশ নেই। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৭৭)

২. দান বা উপকার করে খোঁটা দেওয়া ব্যক্তি হাদিসে এমন ব্যক্তির জন্যও কঠিন সতর্কবার্তা এসেছে, যে কাউকে কিছু দান বা উপকার করার পর তা নিয়ে খোঁটা দেয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তিন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে আল্লাহ কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না, তাদের দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না। তাদের মধ্যে রয়েছে দান করে খোঁটা দেওয়া ব্যক্তি।

এ ছাড়া মিথ্যা শপথ করে ব্যবসার পণ্য বিক্রি করা এবং অহংকারবশত টাখনুর নিচে কাপড় পরিধান করার ব্যাপারেও হাদিসে কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৯৪; সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৭৮৭)

৩. অহংকারবশত পোশাক প্রদর্শনকারী ব্যক্তি অহংকার ইসলামে নিন্দনীয় একটি গুণ। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি অহংকারবশত নিজের পোশাক প্রলম্বিত করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৮৫৬)

৪. বৃদ্ধ ব্যভিচারী, মিথ্যাবাদী শাসক ও অহংকারী দরিদ্র আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন তিন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে আল্লাহ কথা বলবেন না, তাদের পবিত্র করবেন না এবং তাদের দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না। তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। তারা হলো—বৃদ্ধ ব্যভিচারী, মিথ্যাবাদী শাসক এবং অহংকারী দরিদ্র। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৯৬)

আলেমদের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এসব মানুষের ক্ষেত্রে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকার পরও তারা ইচ্ছাকৃতভাবে এসব পাপে জড়িয়েছে। তাই তাদের জন্য বিশেষভাবে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

৫. রুকু ও সিজদার মধ্যবর্তী সময়ে সোজা না হওয়া ব্যক্তি নামাজের ফরজ ও ওয়াজিব বিধান যথাযথভাবে আদায় করা একজন মুসলমানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ত্বলাক বিন আলী (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, যে নামাজি রুকু ও সিজদার মাঝখানে যথাযথভাবে সোজা হয়ে দাঁড়ায় না, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না। (তিরমিজি, হাদিস: ২৬৫)

৬. মাতা-পিতার অবাধ্য সন্তান, পুরুষের সাদৃশ্য গ্রহণকারী নারী ও দাইয়ুস আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তিন শ্রেণির মানুষের দিকে আল্লাহ কিয়ামতের দিন দৃষ্টিপাত করবেন না। তারা হলো—মাতা-পিতার অবাধ্য ব্যক্তি, পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী নারী এবং দাইয়ুস। (মুসনাদ আহমদ, হাদিস: ৬১১)

ইসলামে মাতা-পিতার অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কোরআনে তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বার্ধক্যে তাদের প্রতি বিরূপ আচরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, তাদের একজন বা উভয়েই বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের ‘উফ’ পর্যন্ত বলতে নিষেধ করা হয়েছে এবং তাদের সঙ্গে সম্মানজনক কথা বলতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত: ২৩)

হাদিসে এসেছে, মাতা-পিতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং তাদের অসন্তুষ্টিতে আল্লাহর অসন্তুষ্টি। (তিরমিজি, হাদিস: ১৯৬২)

অন্যদিকে, হাদিসে পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী নারী বলতে পোশাক, চালচলন, কাজকর্ম বা কথাবার্তায় ইচ্ছাকৃতভাবে পুরুষের অনুকরণকারীকে বোঝানো হয়েছে।

‘দাইয়ুস’ বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে, যে নিজের পরিবারে অশ্লীলতা বা অনৈতিকতাকে প্রশ্রয় দেয় এবং পরিবারের সদস্যদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে না। এ ধরনের আচরণ সম্পর্কেও ইসলামী বর্ণনায় কঠোর সতর্কবার্তা রয়েছে।

৭. পুরুষের সঙ্গে নিষিদ্ধ যৌনাচারে লিপ্ত ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে নিষিদ্ধ যৌনাচার সম্পর্কে কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে। তিরমিজির হাদিসে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। (তিরমিজি, হাদিস: ১১৭৬)

কোরআন-হাদিসের এসব বর্ণনার মূল শিক্ষা হলো, একজন মুসলমানের উচিত আল্লাহর অবাধ্যতা, অহংকার, মিথ্যা, প্রতারণা, মাতা-পিতার অবাধ্যতা এবং সব ধরনের নিষিদ্ধ ও অনৈতিক কাজ থেকে নিজেকে রক্ষা করা। একই সঙ্গে নামাজসহ সব ইবাদত সঠিকভাবে আদায় এবং মানুষের অধিকার রক্ষায় সচেতন হওয়া জরুরি।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক জ্ঞান অর্জন, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মহেশপুরে বাওড় থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

সান্তোসের জার্সিতে নেইমারের জোড়া গোল

পদোন্নতির ক্ষেত্রে যোগ্যতাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে দলে নিতে চায় আর্সেনাল

এমপি নজরুলের একের পর এক চাঞ্চল্যকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে

দেশের ১১ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস

যশোরে র‌্যাবের অভিযানে বিদেশি পিস্তলসহ অস্ত্র ব্যবসায়ী আটক

আজ বঙ্গভবন ছাড়ছেন মো. সাহাবুদ্দিন

যশোরে জিতু হত্যার ঘটনায় চারজনের নামে মামলা

ওয়েস্ট ইন্ডিজ-পাকিস্তানের ম্যাচসহ টিভিতে আজকের খেলার সূচি

ফিরেছে সোনালি আঁশের সুদিন, ভালো দাম পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি

কিয়ামতের দিন যাদের দিকে আল্লাহ তাকাবেন না

ফেসবুকে বিনামূল্যে মিলবে ভেরিফায়েড ব্যাজ

অপু-বুবলী নন, তবে কাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন শাকিব খান?

২৬ জুলাই: ইতিহাসের এই দিনে যা ঘটেছিল

লাল শাড়িতে তটিনীর মিষ্টি লুক

যুক্তরাষ্ট্রের ৯ অঙ্গরাজ্যে সাইক্লোস্পোরিয়াসিস, আক্রান্ত ১২ হাজারের বেশি

কোথায় থেকে হামলা চালাচ্ছে হুথিরা, খুঁজে পাচ্ছে না সৌদি আরব

যশোরে উদীচীর ‘শ্রাবণ সন্ধ্যা ১৪৩৩’ উদযাপন

ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হলেন যশোরের অনন্যা

X