
মাগুরার হাজারো বেবকার তরুণের কর্মসংস্থান, আইসিটি উদ্যোক্তা তৈরি, পিছিয়ে পড়া ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়নের স্বপ্ন নিয়ে শুরু হয়েছিল দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প ‘মাগুরা আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার’।
তবে সাড়ে পাঁচশ কোটি টাকার বৃহৎ জাতীয় প্রকল্পের অংশ এই কেন্দ্রটি আলোর মুখ দেখার আগেই মুখ থুবড়ে পড়েছে। আট বছর ধরে ঝুলে থাকা মাগুরা শহরের স্টেডিয়ামপাড়ার (মাগুরা স্টেডিয়ামের সন্নিকটে) দৃষ্টিনন্দন ছয়তলা গোলাকৃতির ভবনটি এখন পরিণত হয়েছে শিয়াল, সাপ আর বেজির অভয়ারণ্যে। আর এ কারণেই ক্ষুব্ধ ও হতাশ স্থানীয়রা ব্যঙ্গ করে প্রকল্পটির নাম দিয়েছেন ‘ফক্স পার্ক’।
বুধবার (২২ জুলাই) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, মুল ফটকে তালাবদ্ধ। প্রায় পাচ একর সরকারি জমির উপর নির্মিত আধুনিক এই প্রযুক্তি কেন্দ্রটির চারপাশ অযত্ন-অবহলোয় এখন ঘন জঙ্গল, কাশবন আর আগাছায় ছেয়ে গেছে। শুধু রাতে নয়, দিনের বেলায়ও এটির ভেতরে বিভিন্ন বন্য প্রাণীদের অবাধ বিচরণ চোখে পড়ে। অথচ দেড় বছরের এই প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালের জুলাই মাসে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লিটন ট্রেডার্স ২০১৮ সালের জুলাইয়ে নির্মাণ কাজ শুরু করে এবং ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করে তা বুঝিয়ে দেয়ার কথা ছিল। এরপর দফায় দফায় সময় বাড়িয়ে সর্বশেষ চলতি বছরের গেল জুন মাস পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হলেও এখনো কাজ শেষ হয়নি ৬৪ শতাংশের বেশি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের আটটি জেলায় মোট ৫৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এই ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনের কাজ শুরু হয়। আশক্সক্ষাজনক তথ্য হলো, অন্য সাতটি জেলার কাজ ইতোমধ্যে শেষ হলেও প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা বরাদ্দের মাগুরা প্রকল্পটি অদৃশ্য কারণে আজো শেষ হয়নি। দীর্ঘ এই স্থবিরতায় স্থানীয়দের মধ্যে দিন দিন ক্ষোভ বাড়ছে।
মাগুরা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ডালিফাই ইয়াসমিন জানান, প্রতিবন্ধী তরুণদের আধুনিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণের যে আশা জেগেছিল, তা এখন শুধুই দীর্ঘশ্বাসে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় কলেজ শিক্ষার্থী মহুয়া পারভীন ও মইনুল ইসলামের প্রশ্ন-প্রশাসনিক উদাসীনতা আর ঠিকাদারের গাফিলতির খেসারত জেলার তরুণ প্রজন্ম আর কতদিন দেবে?
দেড় বছরের প্রকল্প আট বছরেও শেষ না হওয়া কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতাই নয়, বরং সরকারি অর্থ অপচয়ের এক নির্মম দৃষ্টান্ত। মাগুরাবাসীর দাবি-প্রতিশ্রুতির বেড়াজাল ভেঙে দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন এই জঙ্গল পরিষ্কার করে কেন্দ্রটি চালু করা হয়, যাতে এটি ‘ফক্স পার্ক’ নয়, বরং সত্যিকারের ‘আইটি পার্ক’ হিসেবে মাগুরার আলোর দিশারী হতে পারে।
এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “সারাদেশে আটটি কেন্দ্রের মধ্যে সাতটির কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। মাগুরা কেন্দ্রের অবশিষ্ট কাজ এই অর্থবছরের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।”
মন্তব্য করুন