
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস উল্টে নারী ও শিশুসহ অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একই পরিবারের সাতজন বাসযাত্রী রয়েছেন। গুরুতর আহত তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল সোয়া ৮টার দিকে উপজেলার সরোজগঞ্জ বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে মোট কতজন যাত্রী ছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে আলমডাঙ্গা থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় ‘রয়েল এক্সপ্রেস’ নামে একটি বাস। বাসটি দ্রুতগতিতে সরোজগঞ্জ বাজার এলাকায় পৌঁছালে সড়কে থাকা একটি পাখিভ্যানকে পাশ কাটাতে গিয়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। পরে বাসটি সড়কের পাশে উল্টে যায়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা ও রাজশাহীর হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসাপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. ওয়াহিদ মাহমুদ রবিন জানান, বাস দুর্ঘটনার ১৪ জন আহত রোগীকে চুয়াডাঙ্গা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এদের মধ্যে আলমডাঙ্গা উপজেলার আনন্দধাম এলাকার মোছা. বুলবুলী (৪২), চুয়াডাঙ্গার পৌর এলাকার ইমাজেন্সি রোডের আসাদুল (৫২) ও মাদারীপুর জেলার চর কালিকাপুর গ্রামের মিজানুরকে (৫৫) রেফার্ড করা হয়েছে।
দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে আরও ২০ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার রোয়াকুলী গ্রামের ছামিউল (৪০), শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার রুবেল (৪০), চুয়াডাঙ্গার বালিয়াকান্দি গ্রামের মোছা. খাদিজা (১৩), কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার চকহাদী গ্রামের সুমন (৩২), চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার মুন্সিগঞ্জ গ্রামের মো. রাজিব (৩০), মাদারীপুর জেলার চর কালিকাপুর গ্রামের মোছা. পঞ্চমী বেগম (৬০), মাদারীপুর জেলার চরকাতলা গ্রামের সালাম (৬৫), মাদারীপুর জেলার চর কালিকাপুর গ্রামের মিজানুর (৫০) ও একই গ্রামের শাহিন (২০), চুয়াডাঙ্গা শহরের ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল এলাকার ফজর আলী (৫০), চুয়াডাঙ্গার পাচলিয়া গ্রামের ফারজানা (১৮), মাদারীপুর জেলার চর কালিকাপুর গ্রামের রাশিদা (৫০), চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামের হাফিজুর (৫৭), চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী গ্রামের সালাম (২০), গোপালগঞ্জ জেলার গোপীনাথপুর গ্রামের মেহেদী হাসান (৪০), চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার গড়চাপড়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস (৫৫), চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী গ্রামের আরিফ খান (৬০), চুয়াডাঙ্গা সদরের পিটিআইয়ে কর্মরত আরিফুল আজম (৪৫), চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হাটবোয়ালিয়া গ্রামের জনি (৪০), শরীয়তপুর জেলার মোছা. জাহানারা (৬০)।
তাছাড়া আহত আরও একজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় চুয়াডাঙ্গার টাউন মাঠ থেকে মাদারীপুর জেলার চর কালিকাপুর গ্রামের মিজানুরকে (৫৫) এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে নেওয়া হয় পরিবারের পক্ষ থেকে। গুরুতর আহত মিজানসহ পরিবারের সদস্যর মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে একটি অনুষ্ঠানে এসছিলেন বলে জানা গেছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, সকাল পৌনে ৯টার দিকে বাসটি সরোজগঞ্জ এলাকায় পৌঁছালে দুর্ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে আহতদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় ২৩ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন