
প্রায় ৯২ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় পেল মিশর। প্রথমে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে নিউ জিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে মোহামেদ সালাহর দল।
বিশ্বকাপের ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচে ভ্যানকুভারের বিসি প্লেসে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ে মিশর। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দারুণ পারফরম্যান্সে ম্যাচে ফিরেই শুধু নয়, জয়ও নিশ্চিত করে তারা।
ম্যাচের ১৫তম মিনিটে ফিন সারম্যানের গোলে এগিয়ে যায় নিউ জিল্যান্ড। দীর্ঘ সময় পিছিয়ে থাকার পর ৫৮তম মিনিটে মোস্তাফা জিকোর গোলে সমতায় ফেরে মিশর। এরপর ৬৭তম মিনিটে অধিনায়ক মোহামেদ সালাহ দলের হয়ে দ্বিতীয় গোল করেন। বদলি হিসেবে নেমে মাহমুদ আহমেদ ইব্রাহিম হাসান (ত্রেজেগে) ৮২তম মিনিটে তৃতীয় গোল করে জয় নিশ্চিত করেন।
ম্যাচজুড়ে উজ্জ্বল ছিলেন সালাহ। একটি গোলের পাশাপাশি আরেকটি গোলে সহায়তা করে তিনি দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার প্রতিটি স্পর্শেই গ্যালারিতে তৈরি হয় উচ্ছ্বাস।
এই জয়ের মাধ্যমে ১৯৩৪ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে জয় পেল মিশর। একইসঙ্গে একটি ম্যাচে একাধিক গোল করার রেকর্ডও নতুন করে লিখল ‘ফারাও’রা।
ম্যাচে ফেভারিট হিসেবেই শুরু করেছিল মিশর, তবে প্রথম গোল হজম করতে হয় রক্ষণভাগের ভুলে। কর্নার থেকে হেডে গোল করেন নিউ জিল্যান্ডের ফিন সারম্যান।
প্রথমার্ধে কিছু সুযোগ তৈরি করলেও মিশর গোলের দেখা পায়নি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে তারা। একাধিক আক্রমণের পর ৫৮তম মিনিটে হেডে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান জিকো।
এরপর দ্রুতই সালাহ ও সতীর্থদের দারুণ সমন্বয়ে আসে দ্বিতীয় গোল। ডান দিক থেকে বক্সে ঢুকে ওয়ান-টু খেলে নিখুঁত শটে গোল করেন সালাহ।
পরে ৭৬তম মিনিটে জিকো ও মার্মুশকে তুলে নিয়ে হামজা আব্দেলকারিম ও ত্রেজেগেকে নামান কোচ। বদলি হিসেবে নেমেই ৮২তম মিনিটে কর্নার থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন ত্রেজেগে।
শেষ দিকে নিউ জিল্যান্ড কিছু সুযোগ তৈরি করলেও মিশরীয় রক্ষণ ও গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় আর কোনো গোল হয়নি। শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে জয় নিশ্চিত করে মিশর।
এই জয়ের পর দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে মিশর। পরের ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ইরান, আর নিউ জিল্যান্ড খেলবে বেলজিয়ামের বিপক্ষে।
মন্তব্য করুন